যত দ্রুত সম্ভব সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি। গতকাল শনিবার বিকালে ‘চলমান সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস :সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ বিষয়ক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা জানান। ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’ এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারের আয়োজন করে। আইনমন্ত্রী সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান।
আইন মন্ত্রী আরো বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি সেই ওয়াজিগ্রুপ কুমিল্লায় মূর্তির ওপর কোরআন রেখে দেশে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করে এর ফায়দা লুটতে চেয়েছিল। ওয়াজিরা শুধুমাত্র সরকার উত্খাতের লক্ষ্যেই এহেন বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আর এদের মদত দিচ্ছে পাকিস্তান।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তার কথা ভেবেই ‘আইসিটি আইন’টি প্রণয়ন করেছি। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’ খুব শিগিগরই তৈরি করতে যাচ্ছি। আশা করি, এই আইনের ফলে সাক্ষীরা নির্ভয়ে সাক্ষ্য প্রদান করতে পারবেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, মৌলবাদীরা শেখ হাসিনার হাতকে দুর্বল করার জন্যই দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে। সুতরাং আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের পাশাপাশি যেসব ওয়াজি সন্ত্রাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং ভিন্নমতের বিরুদ্ধে জঘন্য হিংসাত্মক বক্তব্য প্রদান করছে তাদের গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া না হলে বাংলাদেশে কখনো সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস ও হামলা বন্ধ করা যাবে না।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী দক্ষিণ এশীয় গণসম্মিলনের সভাপতি বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, মানবাধিকার নেত্রী আরমা দত্ত এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজনীতিবিদ শিরীন আখতার এমপি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক প্রাক্তন আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সমাজকর্মী নির্মল রোজারিও, নির্মূল কমিটির সর্বইউরোপীয় শাখার সভাপতি মানবাধিকার নেতা তরুণকান্তি চৌধুরী, নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেত্রী রুবি হক, নির্মূল কমিটির নিউ ইয়র্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার কর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া।
