মো. কামাল হোসেন, হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
হোমনায় সস্তায় বিক্রি হচ্ছে মা-ইলিশ। সারা দেশে মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন (৪-২৫ অক্টোবর) ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ হলেও হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি ও লটিয়া গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদীতে জেলেরা অবাধে তা ধরছেন। আর এসব ইলিশ নদী থেকেই পাইকাররা পানির দরে কিনে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করছেন সস্তায়। এছাড়াও মেঘনা নদীতে সস্তায় ডিমওয়ালা ইলিশ বিক্রির খবর শুনে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন নদীর ঘাটে গিয়ে পাইকারদের কাছ থেকে ডিমওয়ালা ইলিশ কিনে আনছেন। অন্য সময়ের চেয়ে এখন জালে বেশি ইলিশ ধরা পড়ায় দাম কম হলেও নদীতেই পাইকারদের কাছে মাছ বিক্রি করে দেন জেলেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেরা জানান, যেহেতু বাজারে নিয়ে মাছ বিক্রি করা যায় না এবং বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিক্রি করতেও সময় বেশি লাগে। তার চেয়ে সে সময়টুকুতে নদীতে জাল ফেললে অনেক বেশি টাকার মাছ ধরা যায়। মাছ ধরার সময়ই ট্রলার নিয়ে নদীর মাঝ থেকে কিনে নেন পাইকাররা। তারা উপজেলার শ্রীমদ্দি, লটিয়া, মাথাভাঙ্গা, চরের গাঁসহ বিভিন্ন গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সস্তায় বিক্রি করছেন। দাম কম থাকায় এসব এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের লোকেরাও বেশি বেশি ইলিশ কিনে ফ্রিজে রাখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীমদ্দি গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের এক গৃহবধূ জানান, তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ৬৪টি ইলিশ কিনেছেন ২ হাজার টাকায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শ্রীমদ্দি গ্রামের সরকার বাড়ির ঘাটে মা-ইলিশ বিক্রি করতে আসা শ্রীমদ্দি কুটি বাড়ির মো. হাসিম ও জামান জানান, তারা সাড়ে ৭ হাজার টাকার ইলিশ কিনে বিক্রি করতে এনেছেন। মত্স্য কর্মকর্তা শাহেনুর মিয়া বলেন, হোমনা উপজেলায় কোনো ইলিশ জোন নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমন দে বলেন, গত বছরও মা-ইলিশ রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ জেলে, মাছ ব্যবসায়ীদের সাজা দেওয়া হয়েছে। খুব শিগিগর মা-ইলিশ রক্ষায় নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
