বিশ্বপ্রবাহ ডেস্ক
মূলধারার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অচ্ছুত হয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই খুলতে চলেছেন নতুন প্ল্যাটফরম। তিনি বুধবার নতুন সামাজিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক চালু করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি এর নাম দিয়েছেন ট্রুথ সোশ্যাল। এটি তার ভাষায় ‘বৃহত্ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে’। তার মতে, বৃহত্ প্রযুক্তিগুলো বিরোধী মত ‘নীরব’ করে দিচ্ছে। ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ টিএমটিজি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও তারা একটি ভিডিও অন-ডিমান্ড সার্ভিস চালু করার কথা বিবেচনা করছে।
ট্রাম্প যদিও সামাজিক মাধ্যম চালুর কথা বলেছেন, কিন্তু ফিচারগুলোর বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এটি টেকসই হবে কি না তাও নিশ্চিত নয়। চলতি বছর ৬ জানুুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার পর ট্রাম্প ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবে নিষিদ্ধ হন। ট্রাম্প-সমর্থকদের ঐ হামলায় পুলিশসহ পাঁচ জন নিহত হন। হামলাকাণ্ডকে সমর্থনে ট্রাম্প টুইটার ও ফেসবুকে মন্তব্য করেন। ফেসবুক তখন সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প ২০২৩ সাল পর্যন্তু ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সময় টুইটারও তাকে নিষিদ্ধ ও তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। তিনি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে গণমাধ্যম এড়িয়ে সরাসরি সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য টুইটার ব্যবহার করে আসছিলেন। টুইটারে তার প্রায় ৯ কোটি অনুসারী ছিল। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছর জানুয়ারি পর্যন্ত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি বহুবিধ বিতর্কের জন্ম দেন। এ সময় মিডিয়ার সঙ্গে তার দূরত্ব ছিল লক্ষ করার মতো।
ট্রাম্প যে পৃথক একটি সামাজিক যোগাযোগের ভুবন তৈরি করতে যাচ্ছেন, সেটা অনেকদিন ধরেই অনুমান করা হচ্ছিল। তার উপদেষ্টারাও এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে আসছিলেন যে, তারা ভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সাইট চালু করবেন। চলতি বছর শুরুর দিকে তিনি ‘ফ্রম দ্য ডেস্ক অব ডোনাল্ড জে ট্রাম্প’ নামে ব্লগ চালু করেন। তবে সেটি হালে পানি পায়নি। চালু হওয়ার এক মাসের মধ্যে সেটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ট্রাম্পের বর্তমান উদ্যোগ সম্পর্কে তার সহযোগী জেসন মিলার বলেছেন, ‘আমরা বড় পরিসর নিয়ে কাজ করেছি এবং করছি তারই একটি অংশ।’
টিএমটিজি বলেছে, ট্রুথ সোশ্যালের প্রাথমিক ভার্শন আগামী মাস থেকে চালু করা হবে, তা হবে কেবল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য। ২০২২ সালের প্রথমদিকে এটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করি, যেখানে তালেবান টুইটার ব্যবহার করে; কিন্তু জনপ্রিয় একজন আমেরিকান প্রেসিডেন্টকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, শুধু তাকে নয় বরং কনজারভেটিভদের কণ্ঠই যে মূলধারায় গণমাধ্যমে রুদ্ধ হয়ে গেছে। ট্রুথ সোশ্যালের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এটি হবে এক বৈশ্বিক মতবিনিময় ও সংলাপের মাধ্যম। আদর্শিক কারণে কারো সঙ্গে এখানে বৈষম্য করা হবে না। এ বছর মার্চ থেকেই ট্রাম্প এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে আসছিলেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রুথ সোশ্যালের পক্ষে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া কঠিন হবে। কারণ প্রথমত একে ফেসবুক ও টুইটারের মতো জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এর বিজ্ঞাপন পলিসি কী হবে তা স্পষ্ট নয়। সিলিকন ভ্যালির অন্য কোম্পানিগুলোর সহযোগিতা ছাড়া শুধু ট্রাম্প ব্র্যান্ডকে পুঁজি করে কতদূর এগোনো যাবে তা নিশ্চিত নয়। তাছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প দাঁড়াতে পারেন বলে যে কথা লোকমুখে শোনা যাচ্ছে, সেটাও নতুন সোশ্যাল সাইটটির ব্র্যান্ড ইমেজকে প্রভাবিত করবে। যদি সেরকম কিছু হয় তখন কনজারভেটিভ ছাড়া অন্যরা এটি ব্যবহার করতে যে আগ্রহী হবে না, তা স্পষ্টতই অনুমেয়।
