সংস্থাটি রক্ষায় সংস্কারকাজ চালাচ্ছে বিপিসি

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:০৮

এশিয়াটিক অয়েলে অব্যবস্থাপনা

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ. চট্টগ্রাম অফিস

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তার উপ-সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডকে (এসএওসিএল) ব্যাপক অনিয়ম এবং বিশাল অঙ্কের আর্থিক দেনা থেকে রক্ষায় আইনানুগ হস্তক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত প্রায় ১১ মাস ধরে বিপিসি এই সংস্থাটিকে বাঁচাতে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। সংস্থাটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গার গুপ্তখাল এলাকায় অবস্থিত। 

বিপিসির ঊর্ধ্বতন সূত্রগুলো জানায়, বিপিসি এবং বেসরকারি সংস্থা স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই উভয় পক্ষ ৫০ শতাংশ সমান শেয়ারে জয়েন্ট-ভেঞ্চার কোম্পানি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। বিগত বছরগুলোতে এই কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম দেখা যায়। ফলে কোম্পানিটির ২০২০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ দেনার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা। নির্ধারিত জনবল কাঠামোর তিন গুণ বেশি জনবল যুক্ত করা হলে সংস্থায় দেখা দেয় মাথাভারী প্রশাসনিক কাঠামো। বিপিসি থেকে সরবরাহ করা পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির টাকা সংস্থার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে প্রিমিয়ামসহ বিপিসিকে পরিশোধ করা থেকে বিরত থাকলে এসএওসিএলের আর্থিক দেনার পরিমাণ পাহাড় প্রমাণ হয়ে ওঠে। এই সংস্থাটিকে রক্ষায় সংস্কারকাজ চালাতে বিপিসির উপ-মহাপরিচালক (ডিজিএম) মোরশেদ আজাদকে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

বিপিসির ডিজিএম মোরশেদ আজাদ ইত্তেফাককে বলেন, আমি এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে দেখি বিপিসির কাছে এই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা দেনা জমেছে। গত প্রায় ১১ মাস সংস্কারকাজ চালানোর পাশাপাশি বিপিসির কাছে মোট দেনার বিপরীতে ৫৯০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। এখনো প্রায় ১০০ কোটি টাকার মতো দেনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চরম অব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে। গত তিন বছর ধরে এসএওসিএলের কোনো বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হয়নি। আমি যোগ দেওয়ার আগে এই প্রতিষ্ঠানটির মাসিক অপারেশনাল ব্যয় ছিল সাড়ে ৩ কোটি টাকা। বর্তমানে সেই ব্যয় কমিয়ে আনায় বর্তমানে মাসিক অপারেশনাল ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। এই প্রতিষ্ঠানটি অ্যাভিয়েশন ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) বিক্রিতে প্রতি মাসে ক্ষতি গুনছিল ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৪১১তম বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এই প্রতিষ্ঠান থেকে আর অ্যাভিয়েশন ফুয়েল বিক্রি করা হবে না। এই প্রতিষ্ঠানের অ্যাভিয়েশন ফুয়েল প্রকল্পটি আগামী ৩১ অক্টোবর পদ্মা অয়েল কোম্পানিকে হস্তান্তর করা হবে।

ডিজিএম মোরশেদ আরো বলেন, এসএওসিএলে অনুমোদিত জনবল কাঠামো ছিল ১২৭ জন। কিন্তু অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এতে আরো ১১০ জনের জনবল বাড়িয়ে মোট জনবল কাঠামো করা হয়েছিল সর্বমোট ২৩৭ জন। বর্তমানে জনবল কাঠামো ১২৭ জনের আগের কাঠামোতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিপিসি থেকে সরবরাহ করা পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির টাকা নির্ধারিত লাভসহ বিপিসিকে দীর্ঘদিন জমা না দেওয়ায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এসএওসিএলকে পেট্রোলিয়াম পণ্য বা প্রোডাক্টসমূহ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। গত মাসে (সেপ্টেম্বরে) সিদ্ধান্ত হয়েছে বিপিসি এসএওসিএলকে পণ্য দেবে এই শর্তে যে, যে প্রোডাক্ট যখনই বিক্রি হবে তার বিক্রির টাকা প্রয়োজনীয় হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে বিপিসির কাছে জমা দিয়ে দিতে হবে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এ টি এম সেলিম ইত্তেফাককে বলেন, বিপিসির বাণিজ্যিক শাখা সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসএওসিএল এখন থেকে বিপিসির যেসব জ্বালানি বা প্রোডাক্ট বিক্রি করবে তার টাকা তিন দিনের মধ্যে বিপিসির কাছে জমা দিয়ে দিতে হবে।