স্পোর্টস রিপোর্টার, শারজাহ থেকে
চারিথ আসালঙ্কার ব্যাট থেকে বলটা উইকেটের পেছনে বাউন্ডারি পার হলো। তারও আগে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উত্সব থেমে গিয়েছিল।
ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে পুরো দল থেকে কিছুটা আলাদা হয়ে হাঁটছিলেন লিটন কুমার দাস। একটা সময় হতাশায় ক্যাপটা খুলে হাতে নিলেন। এই পথে নিজেকে টেনে নিতেই যেন কষ্ট হচ্ছিল লিটনের। পরে সতীর্থদের সঙ্গে সে াতে মিশে ড্রেসিংরুমে চলে গেলেন।
গতকাল ম্যাচ শেষে নিশ্চয়ই অন্তর্দহনে পুড়েছেন লিটন। ব্যাটিংটা ভালো হচ্ছে না অনেক দিন ধরে। ফিল্ডিংয়ে লিটনের হাত গলিয়ে মাটিতে পড়া দুটি ক্যাচই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছে। হেরে যায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার দুই হাফ সেঞ্চুরিয়ান চারিথ আসালঙ্কা ৬৩ রানে, ভানুকা রাজাপক্ষে ১৪ রানে জীবন পেয়েছেন তার হাতে। তাদের হাফ সেঞ্চুরিতেই বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। নাঈম শেখ, মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত দুটি হাফ সেঞ্চুরিও বিফলে গেল।
বিশ্বকাপে মূল পর্বে জয়ের খরা কাটানোর আনন্দ উত্সব ধরা দিল না শারজাহতেও। যদিও গতকাল ম্যাচ শেষে মুশফিক হারের জন্য লিটনকে দায় দিচ্ছেন না। তার মতে, ছোট-খাট ভুলেই হেরে গেছে দল। তবে সুযোগ দুটি কাজে লাগালে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত মনে করেন মুশফিক।
গতকাল ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটার বলেছেন, ‘আসলে দায় দেওয়ার কিছু নেই। যত রানই করি না কেন, ছোটখাট কিছু ভুল থাকেই আবার কিছু ইতিবাচক দিকও থাকে। আমাদের আজ (গতকাল) যে ভুল হয়েছে সেটা হল লিটনের দুটো ক্যাচ। সে কিন্তু খুব ভাল মানের ফিল্ডার। আর ওই সময়টাও খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
তিনি আরো বলেন, ‘ঐ সময় আমাদের দুটো উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচ ঘুরেও যেতে পারত। ওরা ৬ ওভার খুবই ভালো পাওয়ার প্লে নিয়েছে। সাকিব আমাদের মোমেন্টাম এনে দিয়েছে। কিন্তু ওদের দুই সেট ব্যাটসম্যান সব বদলে দেয়। ওভারঅল বলব এটা দায় দেয়ার কিছু নেই, কিছু ভুল হয়েছে সেজন্য ম্যাচটা জিততে পারি নাই।’
তবে পরের ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় জানিয়ে মুশফিক বলেছেন, ‘এটা সত্যি খারাপ লাগে যে ভালো খেলে হারলে সেই ভালো খেলার কোনো মানে নেই। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে, এই ফরম্যাটে বড় দল বা ছোট দল বলে কিছু নেই। সামনে একইভাবে আমরা এগোতে চাই। পরের ম্যাচ জয়ের জন্যই খেলব।’
গতকাল ম্যাচে রান পেয়েছেন মুশফিক। নাঈমের সঙ্গে তার ৭৩ রানের জুটিই বাংলাদেশের রানের মূল রসদ। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিক ৩৭ বলে ৫৭ রান (৫ চার, ২ ছয়) করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ১৭১ রানের পুঁজিটা ৭ বল আগেই টপকে গেছে লঙ্কানরা।
বোলিংয়ে ছন্দে থাকা মুস্তাফিজকেও মিস করছে বাংলাদেশ। আইপিএলে ভালো করলেও বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রত্যাশিত সার্ভিস মিলছে এ বাঁহাতি পেসারের কাছ থেকে। মুশফিকের আশা দ্রুতই ছন্দে ফিরবেন মুস্তাফিজ।
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা
টস :শ্রীলঙ্কা
বাংলাদেশ রান বল চার ছয়
নাঈম ক এন্ড ব বিনুরা ৬২ ৫২ ৬ ০
লিটন ক শানাকা ব কুমারা ১৬ ১৬ ২ ০
সাকিব ব করুণারত্নে ১০ ৭ ২ ০
মুশফিক অপরাজিত ৫৭ ৩৭ ৫ ২
আফিফ রান আউট (কুমারা) ৭ ৬ ১ ০
মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ১০ ৫ ২ ০
অতিরিক্ত (বা ২, লেবা ৩, নো ৩, ও ১) ৯
মোট (২০ ওভার, ৪ উইকেট) ১৭১
উইকেট পতন :১-৪০ (লিটন, ৫.৫ ওভার) ২-৫৬ (সাকিব, ৭.৪), ৩-১২৯ (নাঈম, ১৬.১), ৪-১৫০ (আফিফ, ১৮.৩)।
বোলিং :করুণারত্নে ৩-০-১২-১, বিনুরা ৩-০-২৭-১, চামিরা ৪-০-৪১-০, কুমারা ৪-০-২৯-১, আসালাঙ্কা ১-০-১৪-০, হাসারাঙ্গা ৩-০-২৯-০, শানাকা ২-০-১৪-০।
শ্রীলঙ্কা
পেরেরা ব নাসুম ১ ৩ ০ ০
নিসাঙ্কা ব সাকিব ২৪ ২১ ১ ১
আসালাঙ্কা অপরাজিত ৮০ ৪৯ ৫ ৫
আভিশকা ব সাকিব ০ ৩ ০ ০
হাসারাঙ্গা ক নাঈম ব সাইফউদ্দিন ৬ ৫ ১ ০
ভানুকা ব নাসুম ৫৩ ৩১ ৩ ৩
শানাকা অপরাজিত ১ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (ও ৭) ৭
মোট (১৮.৫ ওভার, ৫ উইকেট) ১৭২
উইকেট পতন :১-২ (কুশল, ০.৪ ওভার), ২-৭১ (নিসাঙ্কা, ৮.১), ৩-৭১ (আভিশকা, ৮.৪), ৪-৭৯ (হাসারাঙ্গা, ৯.৪), ৫-১৬৫ (ভানুকা, ১৮.২)।
বোলিং :নাসুম ২.৫-০-২৯-২, মেহেদী ৪-০-৩০-০, সাইফউদ্দিন ৩-০-৩৮-১, সাকিব ৩-০-১৭-২, মুস্তাফিজ ৩-০-২২-০, মাহমুদউল্লাহ ২-০-২১-০, আফিফ ১-০-১৫-০।
ফল :শ্রীলঙ্কা ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা :চারিথ আসালাঙ্কা।
