সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যায় ঘুরেফিরে কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুসার নামই আসছে। কিন্তু মুসা এখন কোথায়? ঘটনার পর প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মূল সন্দেহভাজন মুসাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। পুলিশের খাতায় মুসাকে দেখানো হচ্ছে পলাতক হিসেবে। তবে মুসার পরিবারের দাবি, মিতু হত্যার কিছুদিন পর মুসাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার তার স্বামীর সন্ধান চেয়ে মাস কয়েক আগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি দাবি করেন, মিতু হত্যায় তার স্বামী জড়িত ছিলেন। তবে কাজটি তিনি করেছিলেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের নির্দেশে। পান্না আক্তারের পর একই দাবি করেছেন মিতু হত্যা মামলার আরেক আসামি এহতেশামুল হক ভোলা। গত শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকালে ভোলা বলেন, বাবুল আক্তারের নির্দেশেই তার স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করা হয়েছিল। ভোলার জবানবন্দি রেকর্ড করেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম শফিউদ্দিন। এর আগে শনিবার ভোরে বেনাপোল থেকে ভোলাকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বিকালে তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করার পর সন্ধ্যা ৭টায় তিনি জবানবন্দি দেন।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে ভোলা বলেন, মুসা ছিলেন তার পূর্বপরিচিত। বাবুল আক্তার ২০০৮ সালে চট্টগ্রামে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত থাকার সময় মুসা তার সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাদে মুসার মাধ্যমে বাবুল আক্তারের সঙ্গে ভোলার পরিচয় হয়। এরপর ভোলাও বাবুলের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে বাবুলের নির্দেশে মুসাকে ভোলা তার বালুর ব্যবসায় ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেন।
জবানবন্দিতে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালের মে মাসের দিকে মুসা ভোলাকে বলেন, স্যার (বাবুল) পারিবারিক সমস্যায় আছেন। তার স্ত্রীকে খুন করতে হবে। এজন্য ভোলাকে অস্ত্র সংগ্রহ করে দিতে হবে। তখন বাবুলের পারিবারিক বিষয়ে না জড়াতে মুসাকে অনুরোধ করেন ভোলা। বিষয়টি মুসা বাবুলকে জানালে তিনি (বাবুল) ভোলাকে ডেকে সাবধান করে দেন। এ কাজ না করলে ভোলাকে ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন বাবুল। এরপর বিষয়টি নিয়ে আর উচ্চবাচ্য না করে মিতু হত্যায় ব্যবহূত অস্ত্রটি জোগাড় করে দেন ভোলা।
এ বিষয়ে বাবুল আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, মিতু হত্যার ঘটনায় দায়ের করা প্রথম মামলায় ভোলা গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তখন তার জবানবন্দি কেন নেওয়া হয়নি, সেটা আমাদের কাছে একটা বড় প্রশ্ন। একই ঘটনায় নতুন একটি মামলা করে ঐ মামলায় ভোলাসহ কয়েক জনের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়গুলো আমাদের কাছে দুরভিসন্ধিমূলক বলে মনে হচ্ছে। আমরাও চাই মিতু হত্যার প্রকৃত আসামির সাজা হোক। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে কাউকে টার্গেট করে তদন্ত পরিচালিত হলে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা থাকবে না।
