বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ছেই

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৭

বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বেড়েই চলেছে। ফলে কারখানার উত্পাদন খরচ বাড়ছে। গত মে মাসে বিশ্ববাজারে তুলার দাম ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা গেছে। গত ১৫ মাস ঊর্ধ্বমুখী ছিল তুলার বাজার। ফলে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উত্পাদন খরচ বেড়ে যাবে। এদিকে ত্রৈমাসিক হিসাবে শুধু অ্যালুমিনিয়ামের দর গড়ে ১০ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে চীনে অ্যালুমিনিয়ামের উত্পাদন কমে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। এমনিতেই কয়লার সংকটে বহু দেশে বিদ্যুত্ উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সঙ্গে সঙ্গে কারখানাগুলোতে কাঁচামালসংকটও বড় হয়ে দেখা  দেবে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেট আউটলুক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুনে বিশ্ববাজারে লোহার আকরিকের দাম সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে দর কমে এসেছে। চীন তার কারখানাগুলোতে স্টিল উত্পাদন কমিয়ে আনায় লোহার চাহিদাও কমে আসে। গত সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববাজারে নিকেল ও সিসা ধাতুর দরও গড়ে ১০ শতাংশ করে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনার কারণে চাহিদা কমে আসায় স্বর্ণ রৌপ্যর মতো মূল্যবান ধাতব পণ্যের দাম কমে এসেছে। তাছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণের চাহিদা কমে আসায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইদানীং কমেছে।

সরবরাহসংকটে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তা ছাড়া করোনার প্রভাব কাটতে শুরু করায় সারা বিশ্বেই কাঁচামালের চাহিদা বেড়েছে। বর্তমান সময়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে সরবরাহসংকট কেটে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে ধাতব পণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমে আসতে পারে—বিশ্বব্যাংক পূর্বাভাস দিয়েছে। করোনা শুরুর পর গত বছর সারা বিশ্বেরই চাহিদা ব্যাপকহারে কমে যায়। ধারণা করা হয়েছিল, এ বছর চাহিদা বাড়বে। কিন্তু অপ্রত্যাশিত চাহিদা তৈরি হওয়ায় সরবরাহসংকট দেখা যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামালসংকট।