মুনাফার লোভ দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাত্!

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৯

প্রতারণার অভিযোগে ‘গ্লোবাল গেইন গ্রুপ’-এর সিইও সাইফুল ইসলামকে ঘেরাও করেছিলেন গ্রাহকেরা। পরে গ্রাহকদের কাছ থেকে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে বোয়ালিয়া থানায় নিয়ে যায়। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর শিরোইল বিন্দু হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।  গ্লোবাল গেইন গ্রুপ নামের ঐ প্রতিষ্ঠানের রাজশাহী অফিস ছিল নগরীর উপশহর নূর মসজিদ এলাকায়। তবে মাত্র দুই মাস অফিস চলার পরে তা বন্ধ করে দিয়ে গ্রাহকের কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। এর আগে রাজধানীর বাড্ডায় গ্লোবাল গেইন গ্রুপের অফিসে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল ইসলাম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম, এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আলতাব, জাকারিয়া, মারুফ, হিসাবরক্ষক মেহেদী ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র্যাব।

গ্লোবাল গেইন গ্রুপের কয়েক জন গ্রাহক জানান, করোনার মধ্যে এরা মার্কেটে আসে। এর পরে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে অধিক মুনাফা দেওয়ার নামে। ৫০ হাজার টাকা রাখলে প্রতিদিন ২০০ করে টাকা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া তাদের বিভিন্ন পণ্য রয়েছে, যেগুলো গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হয়। দাম হিসেবে লাভের টাকা থেকে কেটে নেওয়ার কথা ছিল। তবে রাজশাহীতে অল্প কিছুদিন নিয়মিত থাকার পরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

রাজশাহী মহানগরীর মোন্নাফের মোড় এলাকার গ্লোবাল গেইন গ্রুপের গ্রাহক মো. সিরাজ জানান, রাজশাহীতে গ্রাহক প্রায় ১৮০ জন। তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে হাতিয়ে নিয়েছে ১ কোটি টাকার বেশি। আরেক ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন একাই দিয়েছেন ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তিনি জানান, গ্লোবাল গেইন গ্রুপের একটি আইডি ছিল, যে আইডিতে তাদের টাকা আসত। কিন্তু আইডির নিয়ন্ত্রণ ছিল প্রতিষ্ঠানের হাতে। তারা চাইলে টাকা তোলা যেত, না চাইলে টাকা তোলা সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকবার যোগাযোগ করে মাত্র ১২ হাজার টাকা তুলেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মন জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন। আটক সাইফুল পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। বিস্তারিত পরে জানাবেন।