বিদেশে অর্থ পাচার

আট মাসেও রুলের জবাব না দেওয়ায় হাইকোর্টের উষ্মা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৯

সুইস ব্যাংকসহ বিদেশে অর্থ পাচার ঠেকাতে জারিকৃত রুলের জবাব দীর্ঘ আট মাসেও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠান দাখিল না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, অর্থ পাচার বিষয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমরা অন্তবর্তীকালীন আদেশ ও রুল জারি করেছি। দীর্ঘ সময়ের পরেও আজ পর্যন্ত রুলের জবাবটাই দাখিল করা হয়নি। এ নিয়ে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। শুধু পুলিশের পক্ষ থেকে আদেশ প্রতিপালন করা হয়েছে। বাকিরা কোথায়? কেন আদালতের আদেশ প্রতিপালন করা হয়নি? বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের দ্বৈত বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই মন্তব্য করে।

হাইকোর্ট বলেছে, ‘মনে হচ্ছে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। শুধু যাওয়া আর আসার মধ্যে থাকব তা তো হতে পারে না। দেশ, জাতি ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য কিছু একটা করতে হবে। সরকারকে সহযোগিতা করার দায়িত্ব আমাদের।’

এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জবাব দাখিলের জন্য এক মাস সময় চাওয়া হয়। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘কোভিড পরিস্থিতির কারণে জবাব দাখিল করা সম্ভব হয়নি। কোর্টও বন্ধ ছিল। সময় প্রার্থনা করছি।’ এর পরই হাইকোর্ট আগামী ২১ নভেম্বর জবাব দাখিলের জন্য সময় নির্ধারণ করে দেয়। একই সঙ্গে ঐ দিন অর্থসচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, বাণিজ্যসচিব, পররাষ্ট্রসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রারকে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ সময় রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান।

বিদেশি ব্যাংক, বিশেষত সুইস ব্যাংকে পাচার করা ‘বিপুল পরিমাণ’ অর্থ উদ্ধারের যথাযথ পদক্ষেপের নির্দেশনা চেয়ে গত ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম খান ও সুবীর নন্দী দাস। রিটের শুনানি শেষে সুইস ব্যাংকসহ অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে বাংলাদেশের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কত টাকা পাচার করেছে, পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু গত আট মাসেও সিআইডি ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জবাব দাখিল না করায় উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট।