শাহরুখের ছেলের মামলায় নতুন মোড়

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০১:১০

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খানের মাদক মামলা চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। গতকাল রবিবার এ মামলার এক সাক্ষী তার আগের বয়ান অস্বীকার করেছেন। সাক্ষী প্রভাকর সেইল দাবি করেছেন, ১০ পৃষ্ঠার সাদা কাগজে তাকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়েছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এ মামলা দফারফা করতে ঘুষ লেনদেনের কথাও শুনেছেন তিনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এনসিবির কর্মকর্তারা।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, আরিয়ান গ্রেফতার হওয়ার পর এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সেলফি ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই ব্যক্তি হলেন ‘প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর’ কে পি গোসাভি। যদিও ২০১৮ সাল থেকে পুনের এক জালিয়াতি মামলায় ‘পলাতক’ গোসাভি। এ গোসাভির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হলেন সাক্ষী প্রভাকর সেইল। গতকাল তিনি এক হলফনামায় বলেছেন, ২ অক্টোবরের রাতে আরিয়ান খানকে এনসিবির দপ্তরে আনার পর কে পি গোসাভি এবং স্যাম ডি সুজা নামের এক ব্যক্তির মধ্যকার কথোপকথন শুনেছিল সে।

সেখানে মামলাটি রফাদফা করতে ২৫ কোটি রুপি দাবি করা হয়েছিল এবং ১৮ কোটিতে সমঝোতা হয়েছিল। যার মধ্যে ৮ কোটি রুপি এনসিবির জোনাল ডিরেক্টর সমীর ওয়াংখেড়েকে দেওয়ার কথা হয়েছিল। আরিয়ান খানের বিরুদ্ধে চলমান মাদক মামলার তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন এই সমীর ওয়াংখেড়ে।

কয়েক মিনিট পর একটি গাড়িতে কে পি গোসাভি, স্যাম ডি সুজা এবং শাহরুখ খানের ম্যানেজার পূজা দাদলানির মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট বৈঠক হয়। সেইল আরো জানায়, গোসাভির কাছ থেকে রুপি ভর্তি ব্যাগ নিয়ে তিনি ডি সুজার কাছে পৌঁছে দেন। হলফনামায় তিনি বলেছেন, গোসাভি এখন নিরুদ্দেশ। এনসিবি কর্মকর্তারা আমাকেও মেরে ফেলতে পারে বা গায়েব করে দিতে পারে।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এনসিবির কর্মকর্তা সমীর ওয়াংখেড়ে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি এর একটি ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবেন বলে জানিয়েছেন। আরেকটি সূত্র বলেছে, এ দাবি করা হয়েছে শুধু এজেন্সির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য। অফিসে সিসি টিভি ক্যামেরা আছে। এ ধরনের কিছু ঘটেনি।

এদিকে মহারাষ্ট্রের এক মন্ত্রী বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নয় বলেই ছেলেকে নিয়ে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে শাহরুখ খানকে। মন্ত্রী ছগন ভুজবলের মতে, বলিউড অভিনেতা যদি এই মুহূর্তে শাসক দলে নাম লেখান, তবে মুম্বাইয়ের প্রমোদতরী থেকে উদ্ধার হওয়া মাদক চিনির গুঁড়ো’তে পরিণত হবে। তিনি বলেন, গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণে মাদক উদ্ধার হয়েছে। এনসিবি সেই ঘটনার তদন্ত না করে শাহরুখের পিছনে পড়ে আছে।