মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য কিংবা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সাহায্যের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ড কিংবা নানা সামাজিক সংগঠন থেকে উপবৃত্তি দেওয়া হয়ে থাকে। বিশেষ করে পঞ্চম, অষ্টম এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত ফলের ওপর বৃত্তি সুবিধা পেয়ে থাকে। এই প্রচলন দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। একসময় শিক্ষাবৃত্তি কিংবা উপবৃত্তির নগদ অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে কিংবা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হলেও ডিজিটালাইজেশনের এই সময়ে তা রূপান্তরিত হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রমের মাধ্যমে। যেখানে মোবাইলের মাধ্যমে দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সহজেই টাকা উত্তোলনের সুবিধা রয়েছে।
ডিজিটালাইজেশনর এই উদ্ভাবনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি পাওয়া সহজলভ্য হলেও, একদল কুচক্রী মহলের জন্য তৈরি হয়েছে জালিয়াতির অন্যরকম মাধ্যম। যার ফলে সহজেই একদল প্রতারক চক্র শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পেতেছে প্রতারণার বিশাল জাল। উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তথ্য এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ব্যবহূত নম্বর সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের ফেলছে প্রতারণার ফাঁদে। তারা কিছু মানুষকে টার্গেট করে উপবৃত্তি প্রাপ্তির নানা তথ্য দিয়ে কখনো ফোন করছে, কখনো-বা এসএমএসের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলছে। আবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ না করলে উপবৃত্তির এই টাকা আর পাওয়া যাবে না বলেও খুদে বার্তায় উল্লেখ করছে। একই সঙ্গে তুলে ধরছে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ প্রাপ্তির জন্য গুনতে হবে বাড়তি অর্থ।
পাশাপাশি করোনা মহামারিতে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা বোর্ড থেকে। তাই নির্দিষ্ট বড় অঙ্কের শিক্ষাবৃত্তি পেতে তাদের নম্বরে যোগাযোগ করতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুরোধ জানিয়ে এসএমএসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বার্তা প্রেরণ করছে।
মূলত এর সবগুলোই প্রতারণার নানা রকমের ফাঁদ। সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অনেক পরিবার বা শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলছে প্রতারক চক্র। অনেকেই সরল বিশ্বাসে এসব প্রতারক চক্রের জাল বিছানো ফাঁদে পড়ে হারাচ্ছে অর্থ। কিন্তু এই বিষয়ে নেই কোনো জবাবদিহিতা। প্রতারক চক্রের কাছে কীভাবে পৌঁছে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের এই তথ্য? কারা সরবরাহ করছে এই সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, তা একরকম অজানাই থেকে যাচ্ছে।
প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে প্রতারক চক্র প্রতারণাকে পেশা হিসেবে নিলেও ভুক্তভোগীদের জন্য এর সুরাহা খুব বেশি চোখে পড়ার মতো নয়। অনেকেই বিপথে পা দিয়ে কোথায় গিয়ে এর জবাব চাইবে জানেন না। প্রতারক চক্র প্রতারণার জাল বিছিয়ে সফল হয় অনেক ক্ষেত্রে। এই কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে উপবৃত্তিসংক্রান্ত অর্থ নিয়ে নানা প্রতারণার ঘটনা।
এর সমাধানে প্রতারক চক্রকে প্রযুক্তির সাহায্যে আইনের কাঠগোড়ায় দাঁড় করাতে হবে, পাশাপাশি তথ্য সরবরাহ করা মানুষদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। অর্থলিপ্সু মনোভাব থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাইরে দিচ্ছে, যা চরম অন্যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতায় এদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে দেশ যত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, প্রতারক চক্র তাদের পথ বদলে যেন আরো সক্রিয় হচ্ছে। শুধু শিক্ষাবৃত্তি নয় বরং প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়াও সব রকম অপরাধ বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো তত্পর হতে হবে। প্রযুক্তির দ্বারাই প্রযুক্তির ফাঁদ পাতা অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, স্টেট ইউনিভার্সিটি
অব বাংলাদেশ
