জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ

বরিশাল নগরী অতিক্রমকারী অংশের বিষয়ে সওজের সঙ্গে অংশীজনদের মতবিনিময়

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪৪

বরিশাল অফিস

ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা (এন-৮) জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় সাড়ে ১১ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক হচ্ছে বরিশালের অংশে। নগরীর বাইরের গড়িয়ারপাড় থেকে দপদপিয়া সেতুর টোলঘরের ৫০০ মিটার দূরে এ বাইপাস করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এজন্য জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হতে পারে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। এই মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণ বিষয়ে গতকাল সোমবার সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সঙ্গে অংশীজনদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অংশীজনদের সবাই নগরীর বাইরে বাইপাস সড়ক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। সওজ জানিয়েছে, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই আগামী অর্থবছরে এ বাইপাস সড়ক হতে পারে।

ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণে বরিশাল নগরী অতিক্রমকারী অংশের অ্যালাইনমেন্ট নির্ধারণবিষয়ক এ অংশীজন সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বরিশালের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষক, সুধীজনরা উপস্থিত থেকে মত দিয়েছেন। অংশীজনদের নানান মতামতের ভিত্তিতে অতিথিরা বলেন, এ কার্যক্রম যাতে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায় সেজন্য রেলওয়ে, বিমান, সিটি করপোরেশন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই করা হবে। কেননা বর্তমানে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের নির্দেশনা হলো তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়ন করা। যে কারণে তারা সিটি মেয়রের সঙ্গেও কথা বলেছেন। সব অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতেই ফোর লেন এবং পাইপাস সড়ক বাস্তবায়ন করা হবে। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (উপ-সচিব) মো. শামিমুজ্জামান বলেন, বরিশালে যাতে বাইপাস সড়ক হয় সেই লক্ষ্যে তারা দুই থেকে তিন বছর আগে থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আশা করেন, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলে আগামী বছর যে কোনো সময় সড়কের কাজ শুরু হবে। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সওজ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ, রোড ডিজাইন ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী বুলবুল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন প্রমুখ।

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত ফোর লেন করতে হলে বরিশাল অংশে নগরীর মধ্য থেকে নাকি বাইপাস সড়ক করা হবে, তা নিয়ে অংশীজনদের মতামত নিয়েছেন তারা। এর আগে সড়ক বিভাগের সার্ভে তথ্যও তুলে ধরা হয়। সার্ভে অনুযায়ী নগরীর মধ্যকার বর্তমান সড়কের স্থান দিয়ে ফোর লেন গেলে ১০ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু নগরীর বাইরের বাইপাস সড়ক হলে খরচ হবে ৮১৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এ বাইপাস সড়কের দূরত্ব ১১ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। এটি নগরীর গড়িয়ারপাড় থেকে সোনলাবাজার, নবগাম রোড, টিয়াখালী, রুইয়া, রূপাতলী পাম্প থেকে দপদপিয়া সেতুর টোলঘর থেকে দক্ষিণে ৫০০ মিটার দূর দিয়ে যাবে। এজন্য কীর্তনখোলায় আরো একটি সেতু হবে। সেক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় বেড়ে ১ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। সূত্র আরো জানায়, সভায় অধিকাংশ অংশীজন বাইপাস সড়কের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষই চান বিকল্প অ্যালাইনমেন্ট। এতে যেমন আর্থিক সাশ্রয় হবে, তেমনি নগরীর ওপর যানবাহনের চাপ কমবে।