ছোট অপারেশনের পর আইসিইউতে খালেদা জিয়া

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫২

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি হয়েছে। গতকাল সোমবার তার একটি ছোট অপারেশনের পর সার্জিক্যাল আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

পরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে লন্ডন থেকে তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন। ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দারও কথা বলেছেন। ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিথি হাসপাতালে আছেন। গতকাল দুপুরে খালেদা জিয়ার অপারেশনের আগে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে দলের গুলশান অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার ছোট একটি অপারেশনের পর সুস্থ আছেন এবং চিকিত্সকরা বলেছেন তিনি ভালো আছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিত্সক দলের অন্যতম সদস্য ডা. জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট্ট একটি অপারেশন হয়েছে। তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিত্সকরা দেখলেন যে উনার একটা বায়োপসি করা দরকার। ছোট একটা লাম্প আছে এক জায়গায়। যেহেতু লাম্প আছে, তার নেচার অব ভিউ জানার জন্য বায়োপসি করা হয়েছে। অপারেশনের পরে বেগম জিয়া সুস্থ আছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। এখন তিনি আইসিইউতে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। বায়োপসি রিপোর্ট আসতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। এর আগে তো বলা যায় না। অপারেশনের পর ফলাফল পেতে ৭২ ঘণ্টা লাগতে পারে। এ ধরনের অপারেশনের পর কখনো ১৫ থেকে ২১ দিনও সময় লাগে।

‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে সরকারকে দায় নিতে হবে’

মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে নিতে তার মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে। তার যত পুরোনো রোগ আছে, তার জন্য তার মাল্টি অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিত্সা প্রয়োজন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অ্যাডভান্সড সেন্টারে অ্যাডভান্সড চিকিত্সা প্রয়োজন। বেগম খালেদা জিয়ার যদি কিছু হয় তাহলে এর পুরো দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। কারণ তিনি তো এখনো বন্দি। ছয় মাস পর পর তার শর্ত সাপেক্ষে জামিন বাড়াচ্ছে। তিনি তো পুরোপুরি মুক্ত নন। খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এখনো সুস্থ আছেন, কিন্তু গণমাধ্যমে অবস্থা খারাপ বলে প্রচার করছে।

এক জন চিকিত্সক জানান, খালেদা জিয়ার চামড়ার নিচের দিকে ফোসকার মতো হয়েছে। এজন্য অপারেশন করা হচ্ছে। রোগ শনাক্তের অংশ হিসেবে দেহের কোনো অংশ থেকে টিস্যু নেওয়াকে বায়োপসি বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সুচের সাহয্যে ছোট্ট নমুনা টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়। শরীরে সন্দেহজনক কোনো টিউমারে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিতে বায়োপসি করা হয়ে থাকে।

খালেদা জিয়ার বড় বোন সেলিমা ইসলাম গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা ভালো না। জ্বর আসে, জ্বর যায়। কিডনির সমস্যা আছে, সুগার নিয়ন্ত্রণে আসছে না। আরো নানা জটিলতা আছে। এ জন্য আমরা সরকারকে বারবার বলেছি অনুমতি দেন, তাকে বিদেশে পাঠাব।

এদিকে রবিবার রাতে লন্ডন থেকে ঢাকায় এসে বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে হাসপাতালে যান আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি। রাত সোয়া ৯টার দিকে হাসপাতালে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর বের হন রাত ১১টায়। তিনি খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় উঠেছেন। তবে হাসপাতালে বেগম জিয়ার পাশে থাকছেন।