সাংবাদিক ও পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অবরুদ্ধ শিক্ষকরা

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২১, ২২:৫৪

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রায় ৯ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর রেজিস্ট্রার সোহরাব আলীসহ শিক্ষকগণ অবশেষে গত রবিবার মধ্যরাতে মুক্তি পেয়েছেন। এ সময় শিক্ষকেরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলী বলেন, ‘আমি এসেছিলাম ভিসি মহোদয়ের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের জানাতে। আর সেটা হলো আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংকট কাটিয়ে অভিযু্ক্ত শিক্ষক ফারহানা বাতেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু তারা আমার কথায় কোনো কর্ণপাত করেনি, পরে শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি তাদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার জন্য সংযু্ক্ত ছিলেন। তারা তার সঙ্গেও কথা বলতে রাজি হয়নি।’

জানা যায়, ১৪ জন ছাত্রের চুল কাটার ঘটনায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিনের  স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার রাত থেকে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। শনিবার মধ্যরাতে ফেসবুক লাইভে এসে রবিবার দুপুর ১২টার মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে শামীম নামে একজন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করবেন বলে ঘোষণা দেন। পরদিন রবিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারসহ বেশ কয়েক জন শিক্ষক ক্যাম্পাসে আসেন। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষার্থী শামীম সবার উপস্থিতিতে কীটনাশক পান করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। বিকালে শিক্ষকদের নিয়ে রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী আবারও ক্যাম্পাসে এলে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রারসহ প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবরুদ্ধ করেন। পরে শাহজাদপুরে কর্মরত কয়েক জন সাংবাদিক ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শিক্ষকসহ অন্যরা অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্র প্রতিনিধি আবু জাফরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তাদের আন্দোলন থেমে নেই। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।