চেক জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডের ৫ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় দেশ জুড়ে তোলপাড়ের মধ্যেই রহস্যজনক অন্তর্ধানে থাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন গতকাল সোমবার ঘণ্টা দেড়েকের জন্য অফিস করেন। আর মেডিক্যাল ছুটিতে থাকা বোর্ড সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজার কোনো হদিস মিলছে না। এ অবস্থায় আগামী মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তাসহ বোর্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ছন্দপতন ঘটেছে। এতে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো বোর্ডে। এছাড়া প্রশ্ন উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত চেয়ারম্যান-সচিবের স্বপদে থাকা নিয়েও।
এদিকে চেয়ারম্যান ও সচিবের অনুপস্থিতি ও জালিয়াতির ঘটনাকে ঘিরে একদিকে যেমন অস্থিরতা বাড়ছে, অন্যদিকে বোর্ডের স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যার সমাধান না হলে সময়মতো ও সুষ্ঠুভাবে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা অনেকের। তবে কলেজ পরিদর্শক কে এম রব্বানী বলেন, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে নাম সংশোধনসহ দু-একটি ব্যাপারে সামান্য সমস্যা হতে পারে। কিন্তু পরীক্ষাসহ অন্যান্য কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না। এখন বোর্ডের প্রায় সব কাজই হয় অনলাইন পদ্ধতিতে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অনলাইন ফাইলেই চেয়ারম্যানের অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুদক গত ১৮ অক্টোবর পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ঐ দিন সন্ধ্যায়ই শিক্ষা বোর্ড ছেড়ে যান মামলার প্রধান আসামি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন। যাওয়ার আগে দাপ্তরিক কাজে গাজীপুরে যাচ্ছেন উল্লেখ করে অফিশিয়াল ফাইলে নোট রেখে যান। গত শুক্রবার তার অফিশিয়াল গাড়িটিও নিয়ে যান চালকসহ। এছাড়া মামলার দিনেই আট দিনের মেডিক্যাল ছুটির আবেদন রেখে বোর্ড ছাড়েন সচিব অধ্যাপক এ এম এইচ আলী আর রেজাও। তাদের অনুপস্থিতির মধ্যেই গত ২১ অক্টোবর ধরা পড়ে আরো আড়াই কোটি টাকা জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনা।
শিক্ষা বোর্ডের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রধান কলেজ পরিদর্শক কে এম রব্বানি বলেন, প্রথমে ৯টির সঙ্গে পরে আরো একটি চেক জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। এসব তদন্তের জন্য সাত কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত আব্দুস সালাম আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় আরো তিন দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন। এরই মধ্যে নতুন করে আরো ১৬টি চেক জালিয়াতির ঘটনা জানা যাওয়ায় আরো সাত কর্মদিবস সময় দিয়ে তাকে ঘটনা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে তা শুরু হয়েছে।
তবে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, ‘আমি শিক্ষা বোর্ডকে শতভাগ হয়রানিমুক্ত ও সব অনিয়ম উদ্ঘাটন করেছি। আমার সম্পৃক্ততার প্রশ্নই ওঠে না।’
