জয়ের সুযোগ তৈরি করেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছেড়েছিল বাংলাদেশ দল। গত রোববার বিকেলে ম্যাচ খেললেও গতকাল আর অনুশীলন করেনি টাইগাররা। অনুশীলনে ছিল ছুটি। পুরো দল টিম হোটেলে বিশ্রামে ছিল। হারের ধকল কাটিয়ে আজ আবার অনুশীলনে নামবেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। আগামীকাল আবুধাবিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সুপার-১২ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে হারটা হতাশায় পুড়িয়েছে দর্শক, সমর্থক, ক্রিকেটারসহ সবাইকে। বাংলাদেশ দলের মধ্যে নাঈম শেখ হয়তো একটু বেশিই কষ্ট পেয়েছেন। কারণ ব্যাট হাতে দলকে লড়াকু স্কোর এনে দিতে বড় অবদান ছিল এই তরুণ ওপেনারের। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ও বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরির ম্যাচে দলকে জিততে দেখেননি তিনি। ৫২ বলে ৬টি চারে ৬২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন নাঈম।
চলতি বছরে ভালোই ছন্দে আছেন এই তরুণ। তামিম ইকবালের অনুপস্থিতিতে নিয়মিত খেলেছেন তিনি। বিশ্বকাপেও তিন ম্যাচে দুটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। ওপেনিংয়ে আস্থা জোগাচ্ছে তার ব্যাট। লঙ্কানদের বিপক্ষে লিটন দাসের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ৪০, সাকিবের সঙ্গে ১৬ রানের জুটি গড়েন নাঈম। পরে তৃতীয় উইকেটে মুশফিকের সঙ্গে তার ৭৩ রানের যুগলবন্দিতেই ১৭১ রানের পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে লিটন দাসের দুই ক্যাচ মিসেই হারের হতাশায় ডুবে যায় টাইগাররা।
নাঈম অবশ্য ওপেনার হিসেবে নিয়মিত রান করাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক তার রানের ক্ষুধা একই রকম। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটু বেশি ফোকাস থাকতে হয় বলে জানিয়েছেন ২২ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান।
গতকাল বিশ্রামের দিনে নিজের রানের ক্ষুধা নিয়ে বাঁহাতি এই ওপেনার বলেছেন, ‘আসলে সব সময়ই আমি চাই রান করতে। রান করলে যে কোনো ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস বেশি থাকে। কোনো ইভেন্ট থাকলে তো আমার বেশি ফোকাস থাকে। ঘরোয়া ইভেন্টে থেকে আন্তর্জাতিক ফোকাসটা বেশি রাখতে হয় ধারাবাহিক রান করার জন্য।’
তবে নাঈমের ব্যাটিং নিয়ে উচাটান আছে অনেকের মনে। শুরুতে ধীরগতিতে খেলেন, পুরো ইনিংসে স্ট্রাইক রেট টি-২০ সুলভ নয়। অবশ্য ইনিংস লম্বা করতে পারেন তিনি। এবং এক প্রান্ত আগলে খেলতে পারেন। গতকাল নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে নাঈম বলেছেন, ‘আসলে প্রতি ব্যাটসম্যানেরই ব্যক্তিগত পরিকল্পনা থাকে। সেরকম আমারও আছে। আর উইকেট দেখে তো অবশ্যই খেলতে হয়। উইকেট, কন্ডিশন দেখে নিজের পরিকল্পনার সঙ্গে মানিয়ে এরপর ব্যাটিং করতে হয়।’
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচে ওমানের বিরুদ্ধে ৬৪ রান করেছিলেন নাঈম। সব মিলিয়ে ধারাবাহিকতা রয়েছে তার ব্যাটে, যা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কখনো কখনো তার ধীরগতির ব্যাটিং দলের পিছিয়ে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ব্যাটিংয়ের সময় স্ট্রাইক রোটেট করার দিকে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে নাঈমকে। যেখানে তার অনেক উন্নতি প্রয়োজন। ইনিংস জুড়ে স্ট্রাইক রোটেট করতে পারলে নাঈম সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটেই বাংলাদেশের বড় ভরসা হতে পারবেন।
