মতলববাজরা সাম্প্রদায়িক হামলা চালাচ্ছে : মতিয়া ধর্মান্ধ চক্রান্তের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক আছে : ইনু

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০২

 ‘যারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে তারা মানবতার শত্রু, জাতির শত্রু। এদের কোনো ধর্ম নেই। এরা সন্ত্রাসী, এরা শান্তি বিনষ্টকারী। এদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’ গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া কনফারেন্স হলে ‘সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস: রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় জাতীয় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপির সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উত্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি। গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি এমপি, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদত হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরোর সদস্য অধ্যাপক ড. সুশান্ত দাশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রখ্যাত অণুপ্রাণ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কাজল দেবনাথ।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা কেউ করিয়েছে। যারা করিয়েছে, তারা মতলববাজ লোক। তাদের আমি কোনোমতেই অপ্রকৃতিস্থ বলতে চাই না। কারণ অপ্রকৃতিস্থ বললে এদের অপরাধকে হালকা করে দেওয়া হয়।’ ১৪ দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘করোনার সময় রাজনৈতিক তত্পরতা একটু কম হয়েছিল। এর সুযোগ নেয় অশুভ শক্তি। তিনি বলেন, ‘এগুলো সাধারণ মানুষের ব্যাপার নয়। এগুলো দানবদের কাজ। যেমন রংপুরে তারা যেটা করেছে এটা বিকৃত উল্লাস। যারা এগুলো করেছে তারা আসলে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়।’

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি যতদিন ধর্মান্ধদের মাথার ওপরে ছাতা ধরে রাখবে, ততদিন উগ্রবাদীদের আক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যাবে। ধর্মান্ধ চক্রান্তের সঙ্গে বিএনপির একটা রাজনৈতিক সম্পর্ক আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ধর্মান্ধ উগ্রবাদী ও সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদী চক্রের ধ্বংস কামনা করছি। আজকের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যে, উগ্রবাদীদের আক্রমণ বাংলাদেশে আর হবে না এর নিশ্চয়তা প্রদান করা। এটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এই প্রশ্নকে নিষ্পত্তি করতে ধর্মান্ধ শত্রুদের চিহ্নিত করতে হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সংঘবদ্ধ চক্র মানুষকে বিভাজন করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের সেই নীল নকশা কখনোই সফল হবে না। তিনি বলেন, আজ যে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে, ধর্মীয় সহাবস্থানকে নষ্ট করছে, তাদের সমূলে উত্পাটন জরুরি হয়ে পড়েছে। ধর্মীয় বিষয়ে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা আমাদের মতো অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক ঘটনা।