ঐক্যফ্রন্টের সদস্যদের সংসদে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৩

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টের সংসদ সদস্যদের সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট)  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও অল্প সিট পেয়েছেন বলে অভিমান করে পার্লামেন্টে আসছেন না। এটা তাদের রাজনৈতিক ভুল সিদ্ধান্ত। আমার আহ্বান থাকবে, যাঁরাই নির্বাচিত সংসদ সদস্য তাঁরা সবাই পার্লামেন্টে আসবেন, বসবেন এবং যার যা কথা সেটা বলবেন। সংসদে আসলে তাদের যদি কোনো কথা থাকে, তাহলে তারা কিন্তু বলার একটা সুযোগ পাবে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভোটের মালিক জনগণ, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে এবং সেভাবেই জনগণ ভোট দিয়েছে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদ কিরনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী একটি চক্র মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনীতি করে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছে। তবে আমাদের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে বারবার তা ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। কুচক্রি মহল যাতে কোনো ভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ক্ষেত্র তৈরি না করতে পারে, সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।

অবসর নিলে গ্রামে থাকবেন শেখ হাসিনা

ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে অবসর সময়ে গ্রামে থাকার ইচ্ছে পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  যে গ্রামে জন্মেছি ও বেড়ে উঠেছি সেই গ্রামের স্মৃতি বড় মধুর। গ্রামের কাদা মাটি মেখে বড় হয়েছি। এ স্মৃতি কোনো দিন ভোলা যায় না, মোছা যায় না। গ্রামের নির্মল বাতাস এখনো আমাকে টানে। ইট-পাথরের এই নগরী আর ভালো লাগে না। গ্রামের নির্মল বায়ু, খোলামেলা আকাশ। প্রাণ খুলে নিঃশ্বাস নেওয়া যায়। এ কারণে অবসরে গ্রামে থাকা আমার খুব আকাঙ্ক্ষা।

জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, জাপান এবং ওআইসির নেতৃবৃন্দসহ প্রায় সকল গণতান্ত্রিক দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান আমাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

জ্যাকব টাওয়ার নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা উচিত

প্রশ্নোত্তরে সম্পূরক প্রশ্নের জন্য ফ্লোর পান সাবেক পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী এবং ভোলা-৪ (মনপুরা-চরফ্যাশন) আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। সম্পূরক প্রশ্নে তিনি তার নির্বাচনি এলাকায় অতীতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি দাবি করে সেখানে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান করার কথা বলেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই যে সরকার এসেছে ভোলায় কিন্তু কেউ না কেউ মন্ত্রী থেকেছেন। আর ভোলার উন্নয়ন হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। মাননীয় সংসদ সদস্য যে এলাকার কথা বলছেন, ওখানে কিন্তু জ্যাকব টাওয়ার হয়ে গেছে। সেই ‘জ্যাকব টাওয়ার’ দেখতেই বহু লোক যায়। আমার মনে হয়, এটা নিয়েই উনার সন্তুষ্ট থাকা উচিত।’ 

সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, দেশব্যাপী সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও সড়কে শৃঙ্খলা আনার জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

প্রাথমিকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিমার্জন করা হবে

সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিমার্জন করা হবে। পরবর্তী বছর থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে ছাপানো বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মনোযোগী করার লক্ষ্যে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যপুস্তকের ব্যবহার সহজ ও আকর্ষণীয় করার জন্য ২১টি পাঠ্যপুস্তকের ‘ডিজিটাল কনটেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫টি (চাকমা, মারমা, সাদরি, ত্রিপুরা ও গারো) ভাষায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনা মূল্যে বিতরণ করা হয়েছে।

নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করা হবে

সরকারি দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের সুপারিশমালা পরীক্ষা করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। সরকার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে প্রতি ৫ বছর পর পর ওয়েজবোর্ড গঠন করছে। নবম ওয়েজবোর্ড সব সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য ৪৫ ভাগ মহার্ঘভাতা প্রদানের সুপারিশ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত ৪৪টি টেলিভিশন লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩টি সম্প্রচার করছে। ২৮টি এফএম রেডিও-এর লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি এফএম রেডিও সম্প্রচার করছে। ৩২টি কমিউনিটি রেডিও লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে, এর মধ্যে ১৭টি সম্প্রচারে রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে প্রকাশিত মোট দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ১ হাজার ২৪৮টি, যার মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার সংখ্যা ৫০২টি ও আঞ্চলিক পত্রিকার সংখ্যা ৭৪৬টি। তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরি সুরক্ষার জন্য ‘গণমাধ্যমকর্মী (চাকরি ও শর্তাবলী) আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। গত বছর ১৫ অক্টোবরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এর নীতিগত অনুমোদন করা হয়।