একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ার চামড়াজাত দ্রব্যের ইন্ডাস্ট্রিতে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাক্ট ডিজাইনিং, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, মার্চেন্ডাইজিংসহ বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেন।
এক নজরে একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ার
সাধারণ পদবী :লেদার ইঞ্জিনিয়ার
বিভাগ :ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রতিষ্ঠানের ধরন :কোম্পানি
পেশার ধরন :ফুল-টাইম
লেভেল : এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে অভিজ্ঞতা সীমা : ০-২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন সীমা :২০,০০০— কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা :২৫ বছর—কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
মূল স্কিল :চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য সম্পর্কিত ধারণা, প্রসেস ডেভেলপমেন্টের দক্ষতা, কারখানার উত্পাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কিত ধারণা
বিশেষ স্কিল :প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা, ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা
লেদার ইঞ্জিনিয়ারের কাজ
কাঁচামালের (চামড়ার) গুণগত মান পরীক্ষা করা প্রয়োজনে কাঁচামালের (চামড়ার) রাসায়নিক পরিবর্তন করা, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ পর্যবেক্ষণ করা, কিছু ক্ষেত্রে চামড়াজাত পণ্যের নকশা করা। চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় উত্পাদিত বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দেয়া।
লেদার ইঞ্জিনিয়ারের যোগ্যতা
শিক্ষাগত যোগ্যতা :লেদার ইঞ্জিনিয়ার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই এ বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি নিতে হবে। বিএসসি ইন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, বিএসসি ইন লেদার প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং—এগুলোর মধ্যে যে কোন একটি ডিগ্রি যথেষ্ট।
বয়স :প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।
অভিজ্ঞতা :এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ১-২ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।
দক্ষতা ও জ্ঞান
সর্বোচ্চ উত্পাদনের জন্য রাসায়নিক উপকরণ ব্যবহারের দক্ষতা, চামড়ার গুণাগুণ নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষার জন্য ব্যবহারিক কাজে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করার সক্ষমতা। কারখানার উত্পাদন প্রক্রিয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খুঁটিনাটি জানা, ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও সাপ্লাই চেইনের ধারণা এ খাতে অনেক কাজে দেয়। ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করার দক্ষতাও বেশ জরুরি।
কোথায় পড়বেন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং
বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানে লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়তে পারেন—
ইনস্টিটিউট অফ লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (ILET), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (KUET)। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মূল বিষয়ের পাশাপাশি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, পলিমার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজাইনিং, ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ার পড়াশোনা করতে পারেন।
লেদার ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয়
শুরুতে একজন লেদার ইঞ্জিনিয়ার মাসে ২০,০০০-২৫,০০০ টাকা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞতা অর্জনের সাথে সাথে ২-৩ বছরের মধ্যে বেতন ৫০,০০০ হয়ে যায়। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী হলে বেতন কয়েক লাখ টাকা হওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে
আমাদের দেশের চামড়াজাত শিল্পে প্রসারের ফলে এ পেশার চাহিদা বেড়েই চলেছে। ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে পারলে ম্যানেজার পদে উন্নিত হবার সুযোগ রয়েছে আপনার। এছাড়া ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ পদ হতে পারে চীফ লেদার টেকনোলজিস্ট।
