বরগুনার বিষখালী নদীর চরের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে অন্যত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌসুম শুরুর আগেই বরগুনায় ইটভাটার মালিকেরা ইট তৈরির জন্য নদীর তীরের মাটি কেটে নিচ্ছেন। বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের খুব কাছ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বাঁধ। একই সঙ্গে বিলীন হচ্ছে নদীর চরাঞ্চলের কৃষিজমি। এভাবে নদীর চর থেকে মাটি কাটলে এক-দুই বছরের মধ্যে বেড়িবাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনটকি এলাকায় বিষখালী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ছয়টি ইটভাটা মৌসুম শুরুর আগেই ইট তৈরির জন্য নদীর চর ও তীর থেকে মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছে।
হরিদ্রবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মো. শাহীন বলেন, আমাদের এই এলাকা ভাঙনকবলিত। তার ওপর ইটভাটার মালিকেরা যেভাবে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিচ্ছেন, এতে নদীর ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়ে যাবে। তাতে এক-দুই বছরে মধ্যে এই এলাকার নদীর চর শেষ হয়ে যাবে। এর ফলে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আরএসবি ব্রিকসের মালিক গোলাম মোস্তফা কিসলু বলেন, ‘যে জায়গা থেকে মাটি কাটা হচ্ছে, তা আমার রেকর্ড করা সম্পত্তি। এখানে নদীর কোনো জমি নেই। নদীর তীরের মাটি কাটার তথ্য সত্য না।’ একই কথা জানান আল মামুন এন্টারপ্রাইজ ব্রিকসের মালিক ও বরগুনা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর বরগুনা নদীবন্দরের কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ বলেন, বাইনচটকি এলাকার কালীর চর পর্যন্ত ছয়টি ইটভাটা রয়েছে। ইট প্রস্তুত মৌসুম শুরুর আগেই ভাটার মালিকেরা নদীর চরের মাটি কেটে নিচ্ছেন। ভাটা সম্প্রসারণের জন্য নদীতে জেগে ওঠা চর দখল করায় পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, নদীর চর থেকে যদি ভাটার মালিকেরা ইট তৈরির জন্য মাটি কেটে থাকেন এবং চর দখল করে ইটভাটা গড়ে তোলার কারণে যদি নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়, তাহলে এসব ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, নদী থেকে মাটি কাটা যাবে না। বাঁধ ঝুঁকিতে রেখে নদীর তীর থেকে মাটি কাটলে তা হবে আইনত অপরাধ।
