নাসিরনগরে ৯ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২১:২২

নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

আগামী ১১ নভেম্বর নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬৫ জন, সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৭০ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৫০৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরমধ্যে বাছাইয়ে দুই জন চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা আসনে তিন জন ও সাধারণ সদস্য পদে তিন জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে বর্তমানে ৬৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে ৯ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ১৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ আবদুল আহাদ, বিদ্রোহী মীর হোসেন ও রফিকুল ইসলাম। ভলাকুট  ইউনিয়নে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান রুবেল মিয়া, বিদ্রোহী মো. শাহআলম ও মো. আরাফাত আলী। গোয়ালনগরে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ডা. মো. কিরণ মিয়া, বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী ও মো. কাপ্তান মিয়া। কুন্ডায় মনোনয়ন পেয়েছেন মো. ওয়াছ আলী ও বিদ্রোহী নাদিম হোসেন মামুন। নাসিরনগর সদরে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য পুতুল রানী দাস, বিদ্রোহী উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল আহাদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রফিজ মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা মুখলেছুর রহমান ভূইয়া। বুড়িশ্বরে বর্তমান চেয়ারম্যান এ টি এম মোজাম্মেল হক সরকার, ফান্দাউকে সদ্য পদত্যাগী জেলা পরিষদ সদস্য ফারুকুজ্জামান ফারুক, গুনিয়াউক ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান মো. জিতু মিয়া, বিদ্রোহী সৈয়দ মুস্তাক আহমেদ দিপু, চাপরতলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মনসুর আলী ভূইয়া, বিদ্রোহী মো. আব্দুল আহাদ ও কামরুজ্জামান। গোর্কণ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ছোয়াব আহমেদ হূতুল, পূর্বভাগে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মো. আক্তার মিয়া ও বিদ্রোহী মো. জাহের মিয়া। হরিপুরে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ওয়াসিম আহমেদ, বিদ্রোহী স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক মিয়া, তার স্ত্রী স্থানীয় ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিরিন আক্তার ও হেলাল মিয়া এবং ধরমন্ডল ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান বাহার উদ্দিন চৌধুরী। এদিকে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও কয়েক জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেন নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে হাসানুর রহমান, বুড়িশ্বরে মো. ইকবাল চৌধুরী, কুন্ডায় ওমরাহ খান, অ্যাডভোকেট নাসিরউদ্দিন ভূইয়া, গোকর্ণ ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান এম এ হান্নান, সৈয়দ মোহাম্মদ শাহিন, সামসুল আরেফিন, ফান্দাউকে মো. সার্জেন্ট সফিকুল ইসলাম, পূর্বভাগে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, হরিপুরে সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল মিয়া, গুনিয়াউকে অ্যাডভোকেট মো. সামছুল হক লিটন, চাপরতলায় বর্তমান চেয়ারম্যান ফয়েজ উদ্দিন ভূইয়া, ভলাকুট ইউনিয়নে মোজাম্মেল হক এবং ধরমন্ডল ইউনিয়নে সফিকুল ইসলাম। তবে কোনো কোনো ইউনিয়নে বিএনপির একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টি (এরশাদ) ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নেই তৃণমূলের নেতাদের মতামতের মাধ্যমে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপরও কেউ কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহারে তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। তা না হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।