প্রতি কেজি ধান উত্পাদনে শ্রমিক খরচ প্রায় চার টাকা

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২১:২৫

দেশে প্রতি কেজি বোনা আউশের জন্য শ্রমমজুরি খরচ হয় চার টাকা। দেশি বোনা আমনে খরচ তিন টাকা ৭৩ পয়সা। উচ্চফলনশীল আমনে খরচ তিন টাকা ৭৩ পয়সা। অপরদিকে ভুট্টার বিপরীতে শ্রমমজুরি মাত্র এক টাকা ৭৬ পয়সা। গড়ে ধান ও ভুট্টা উত্পাদনে কেজিপ্রতি শ্রমমজুরি খরচ তিন টাকা ২৭ পয়সা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘কৃষিপণ্যের স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত জরিপ’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে আরো দেখা যায়, দেশে ডালজাতীয় ফসল উত্পাদনে গড়ে কেজিপ্রতি মজুরি বাবদ খরচ হচ্ছে ছয় টাকা ১২ পয়সা। বাদাম উত্পাদনে সবচেয়ে বেশি ১০ টাকা ১১ পয়সা। পাট উত্পাদনে শ্রমিক বাবদ খরচ ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অর্থাত্ ধান উত্পাদনের চেয়ে পাট উত্পাদনে শ্রমিকের খরচ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকে কৃষি ফসলের পাশাপাশি মাছ ও দুধের উত্পাদন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত কৃষকরা তাদের উত্পাদিত পণ্যের সবটাই বাজারে বিক্রয় করেন না। নিজেদের ভোগের জন্য কিছু ফসল রেখে খাদ্যশস্য বাজারে কতটা বিক্রি হচ্ছে সে বিষয়ে ধারণা পেতে এই জরিপটি করা হয়েছে। তাছাড়া ফসলের মধ্যবর্তী পর্যায়ে কতটা ভোগ হচ্ছে, মূল্য সংযোজন হচ্ছে সে বিষয়গুলোও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবিএস এর ইমপ্রুভমেন্ট অব জিডিপি কম্পাইলেশন অ্যান্ড রিবেইজিং অব ইন্ডিসেস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জিয়াউদ্দীন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের বিস্তারিত তথ্য সন্নিবেশন করতে এ ধরনের জরিপ করা হয়েছে। স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্তের পরিমাণ যত বেশি হবে, বাণিজ্য খাতে মূল্য সংযোজনের পরিমাণও তত বেশি হবে। এ ধরনের বিস্তারিত মূল্য সংযোজনের তথ্য জিডিপি হিসাবকে আরো সমৃদ্ধ করবে। তাছাড়া এই বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্তের তথ্য এবং এর গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারণেও সহায়ক হবে। ২০১৭-২০১৮ এবং ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজার চিত্র, মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। করোনার প্রকোপ শুরুর আগে এই জরিপটি করা হলেও সম্প্রতি এটি চূড়ন্ত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে করোনার প্রভাবের বিষয়গুলো আসেনি। কৃষি বিপণন ও মূল্যের পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানি সম্পর্কিত যথাযথ নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্তের হালনাগাদ ও সমন্বিত তথ্য জানা জরুরি।

উল্লেখ্য, কৃষকরা নিজেদের ভোগের পর যে অংশ বাজারে ছেড়ে থাকেন তাকে কৃষিপণ্যের স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত আকারে হিসাব করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশের শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি মূলত কৃষিপণ্যের উত্পাদন এবং এর বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্তের ওপর নির্ভর করে। পাইকারি বাজার হয়ে এসব কৃষিপণ্য বাজার ব্যবস্থায় প্রবেশ করে।

জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে সব প্রকার ধানের মধ্যে উচ্চফলনশীল বোরোর বিপরীতে স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত সবচেয়ে বেশি ৬৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। অর্থাত্ কৃষকরা এই পরিমাণ ধান পাইকারি বাজারে ছেড়ে থাকেন। এর পরে উচ্চফলনশীল আউশ ৬৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং উচ্চফলনশীল আমনের অবস্থান ৫৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। তবে রোপা আউশের বিপরীতে স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত সবচেয়ে কম মাত্র ২৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত বিবেচনায় কার্পাস তুলা প্রথম স্থানে রয়েছে প্রায় ৯৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। পাটের হলো ৯৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। দেশে ২৪ প্রকারের সবজির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে এগুলোর গড় স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত প্রায় ৭০ শতাংশ, শাকসবজির প্রায় ৭৭ শতাংশ। মসলার মধ্যে পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি ৮৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর পরে ধনিয়া ৮৭ শতাংশ, রসুন ৮৫ শতাংশ। ফলের মধ্যে ২১ ধরনের ফলের গড় স্থূল বাজারজাতকৃত উদ্বৃত্ত প্রায় ৭০ শতাংশ।