কক্সবাজারের উখিয়ার ক্যাম্পে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যামামলায় গ্রেফতার তিন আসামির প্রত্যেককে দুই দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার শুনানি শেষে সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কক্সবাজার আদালতের বিচারক মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এ আদেশ দেন। এর আগে সোমবার বিকালে এ তিন আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) গাজী সালাহউদ্দিন। আবেদনটি মঙ্গলবার শুনানির জন্য দিন ধার্য করে আদালত। শনিবার ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন-১৪) সদস্যরা মুহিবুল্লাহ কিলিং স্কোয়াডের সদস্যসহ চার জনকে গ্রেফতার করে। যার মধ্যে কিলিং স্কোয়াডের শীর্ষ পাঁচ জনের একজন আজিজুল হক হত্যার দায় স্বীকার করে পরের দিন জবানবন্দি দেন।
অন্য তিন জন কুতুপালং ক্যাম্প-১ এর ডি-৮ ব্লকের আব্দুল মাবুদের ছেলে মোহাম্মদ রশিদ ওরফে মুরশিদ আমিন, একই ক্যাম্পের বি ব্লকের ফজল হকের ছেলে মোহাম্মদ আনাছ ও নুর ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। মঙ্গলবার শুনানি শেষে তাদের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ ইস্ট-ওয়েস্ট (ডি ব্লকে) নিজ অফিসে মুহিবুল্লাহকে গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর উখিয়া থানায় মামলা করেন মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ। এখন পর্যন্ত এ হত্যামামলায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে আজিজুল হক ও মোহাম্মদ ইলিয়াছ নামে দুই রোহিঙ্গা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ছয় খুনের ঘটনায় আরো চার জন গ্রেফতার :
এদিকে উখিয়া ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের এক মাদ্রাসায় নৃশংস হামলায় ছয় খুনের ঘটনায় ক্যাম্পের এক হেড মাঝিসহ আরো চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই মামলায় এজাহার নামীয় পাঁচ জনসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হলো।
উখিয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত গাজী সালাহউদ্দিন জানান, বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে মাদ্রাসার ছয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১০র হেড মাঝি শফিউল্লাহসহ আরো চার জনকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার রাত ও মঙ্গলবার ভোরে এপিবিএন পুলিশ এবং উখিয়া থানাপুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। আটক শফিউল্লাহ ছাড়া বাকি তিন জন হলেন, ব্লক মাঝি ফরিদ হোসেন, জাহেদ হোসেন ও মো. হাশিম। এ নিয়ে এই মামলায় মোট ১৪ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
