ভুলে ভরা গুচ্ছের ফল, অসন্তোষ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:৪২

প্রথম বারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক বিভাগ) ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তবে ফলাফল প্রকাশের পরই শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা বলছে, তাদের ভরাটকৃত প্রশ্নের সঙ্গে ফলাফলের মিল নেই। আবার প্রশ্ন ভরাটের চেয়ে বেশি নম্বর পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কর্তৃপক্ষ বলছে, ফলাফল নিয়ে কারো সন্দেহ থাকলে তা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকছে।

নরসিংদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবির ইংরেজিতে কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়েও ২২ পেয়েছেন। আবার বাংলায় ৩১টি প্রশ্নের উত্তর দিলেও ফলাফলে চারটি উত্তর দিয়েছে বলে দেখানো হয়েছে। রাজধানীর দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে এইচএসসি পাশ করা আবু নোমান সালমানের ফলাফলে দেখা যায় ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ২২ দশমিক ৫০। তিনি বলেন, বাংলা অংশে ৪০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টি ভরাট করেছি কিন্তু রেজাল্টে দেখাচ্ছে ২০টা ভরাট। আবার ইংরেজিতে ৩৫টার মধ্যে ১৭/১৮টা কিন্তু ফলাফলে দেখাচ্ছে ইংরেজিতে ৩০টা ভরাট করেছি। আমার হিসাব অনুযায়ী আমি ৪৩/৪৪ মার্কস পাওয়ার কথা। কিন্তু অতিরিক্ত ভরাট দেখিয়ে সেটা আবার মাইনাস দেখাচ্ছে, পেয়েছি ২২ দশমিক ৫০। এই শিক্ষার্থী বলেন, আমি সেকেন্ড টাইমার পরীক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে অনেক যুদ্ধ করে প্রায় দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নিলাম। অনেক স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। কিন্তু গুচ্ছ পরীক্ষার এমন ফলাফলে আমার সব শেষ হয়ে গেল।

একই বিড়ম্বনায় পড়েছেন ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা মুবাশ্বির আহমেদ। প্রকাশিত ফলাফলে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৪৬ নম্বর পান এ শিক্ষার্থী। তবে ভর্তি পরীক্ষার বাংলা অংশে ৪০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর করলেও প্রকাশিত ফলাফলে বাংলা অংশে ২৮টি পূরণ করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের আরেক শিক্ষার্থী সজিব হাসান ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ইংরেজিতে ৩৫টা প্রশ্নের সবই পূরণ করেছি, কমন ছিল ২৭টা। এখন রেজাল্ট অনুযায়ী আমি নাকি ৩১টার উত্তর করেছি, যেখানে ১১টাই আবার ভুল! শুধু আবির, সালমান, মুবাশ্বির আর সজিবই নয়, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীই প্রকাশিত ফলাফল নিয়ে অসন্তুোষ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ওএমআর পূরণ করতে ভুল করে। অর্ধেক ভরাট, অস্পষ্ট হলে কম্পিউটারে সেটা রিড করে না। এখানে ওএমআর সম্পূর্ণ কম্পিউটারের মাধ্যমে রিড হয়, তাই ফলাফল ভুল হওয়ার প্রশ্নই আসে না। এরপরও যারা চ্যালেঞ্জ করতে চায়, বাণিজ্য অনুষদের পরীক্ষার পর আমরা একটা নোটিশ দেব। নির্ধারিত ফি দিয়ে শিক্ষার্থীরা পুনরায় ফলাফল চেক করতে পারবে।