সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত হচ্ছে মানুষের জীবনধারা। মানুষকে সুযোগ-সুবিধা দিতে আসছে বিভিন্ন প্রযুক্তি। বর্তমান যুগে ইন্টারনেট-স্মার্টফোন ছাড়া একটি মুহূর্ত ভাবা যায় না। ইন্টারনেট স্মার্টফোন বিশ্বকে আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে। নিজের স্মার্টফোন দিয়ে আমরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, ইন্সট্রাগ্রামসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি কিংবা স্ট্যাটাস আপলোড, চ্যাটিংসহ নানা কাজ করছি। গুগল মিট কিংবা জুম অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করছি। দেশ ও দেশের বাইরে মেইল পাঠাচ্ছি। বিভিন্ন তথ্য, খবর জানতে পারছি। ইউটিউবে নিত্য নতুন ভিডিও দেখছি। অর্থাত্ আমাদের নানা কাজে এসব ব্যাবহার করছি। কিন্তু আমরা অনেকেই ভার্চুয়াল জগতে নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছি। আজকাল বন্ধু-বান্ধবদের আড্ডাতে সেই আমেজ বিরাজ করে না। কেউ কারো কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে না। এই তো সেদিন আমার এক বন্ধু একটি জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল; কিন্তু কেউই তার কথায় মন দেয়নি। সবাই নিজের স্মার্টফোনে বিভোর ছিল। শুধু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেই না, আজকাল ভাইবোনদের সেই মায়াভরা আড্ডার দেখা পাওয়া যায় না। পরিবারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাতেও সবাই মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আজকাল শিশুদের দৌড়ঝাঁপ কিংবা মাঠে খেলার দৃশ্যও খুব একটা দেখা যায় না। অধিকাংশই মোবাইলে গেমস খেলে সময় পার করে। এতে তাদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। স্মার্টফোনে আমরা এতটাই নিমজ্জিত যে আমরা ভুলে যাই আমাদের বাস্তব জীবনের কথা, আমাদের চারপাশের কথা! ভার্চুয়াল জীবনে ডুবে আমরা আমাদের বাস্তব জীবন থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছি। অথচ এ ভার্চুয়াল জগত্ কখনো বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা নিষ্ক্রিয় হলে আমরা হারাব আমাদের ভার্চুয়াল বন্ধুদের, যাদের সঙ্গে আর কখনো যোগাযোগের সম্ভাবনাই থাকবে না। হ্যাঁ মানছি যে ভার্চুয়াল জীবনে আমাদের বহু কাজ সহজে করা সম্ভব হয়। কিন্তু ভার্চুয়ালে নিমজ্জিত থেকে আমরা হারিয়ে ফেলব নিজেদের অভ্যাসগুলোকে? হারিয়ে যাবে আমাদের বাস্তবজীবনের বন্ধুরা? আমাদের বন্ধুত্ব, আমাদের সম্পর্কের দিকে নজর দিয়ে প্রয়োজনেই ব্যবহার হোক স্মার্টফোনগুলো।
মো. আবীর আল-নাহিয়ান, জকিগঞ্জ, সিলেট
