পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই গঙ্গাচড়ায় ৫০০ একর জমি অনাবাদি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪৫

গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় গঙ্গাচড়ায় আমন মৌসুমে অনাবাদি পড়ে আছে প্রায় ৫০০ একর জমি। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। 

কৃষকরা জানান, উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের রাজবল্লভ বোতলার দোলায় তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধে পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট একটি স্লুইচ গেট নির্মাণ করে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঐ স্লুইচ গেট দিয়ে প্রায় ৫০০ একর চাষাবাদকৃত জমির পানি নিষ্কাশন হয়। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেলে স্লুইচ গেট দিয়ে পানি ভেতরে প্রবেশ করে। কিন্তু ভাটিতে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে তিস্তার পানি শুকালেও সেই দোলার পানি নিষ্কাশন হয় না। ফলে দোলার মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কচুরিপানায় ভরে থাকে। তাই কৃষকরা আমন আবাদ করতে পারেন না। অনাবাদি পড়ে থাকে আবাদযোগ্য জমি। এ কারণেই গত দুই/তিন বছর যাবত্ আমন মৌসুমে অনাবাদি পড়ে আছে ঐ ৫০০ একর জমি। কৃষক লিয়াকত, দুলাল, মোত্তালেব ও আবুবার হোসেন জানান, রাজবল্লভ, জয়দেব, একনাথ, মানাষপাড়া, হাজীপাড়াসহ কয়েকটি এলাকার প্রায় ১ হাজার কৃষকের ৫০০ একরের অধিক জমি রয়েছে। ঐ জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে আমরা সংসার চালাই। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের অভাবে জমে থাকা পানিতে আমন ধান তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা ছোট স্লুইস গেটের স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসছি।

গজঘণ্টা ইউপির সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী বলেন, আমার সময়ে সেই দোলার পানি নিষ্কাশনের জন্য ক্যানেল খনন করা হয়েছিল। কিন্তু ভাটিতে ক্যানেলের সামনে ভরাট হওয়ার কারণে দোলার পানি বের হচ্ছে না। ভাটিতে ক্যানেল খনন করা হলে কৃষকরা আমন ধান চাষ করতে পারত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, পাানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে আমন মৌসুমে ধান চাষ করা যেত। এতে কৃষকরা লাভবান হতো। সেই সঙ্গে দেশে ধানের উত্পাদন বাড়ত।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জাকারিয়া আলম জানান, এলাকার কৃষকরা পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি রেগুলেটর কাম ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসছে। এটি নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্প পাশ হলে রেগুলেটর কাম ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। তখন এ সমস্যা আর থাকবে না।