রাজশাহীর তানোরে পটাশ ডিএপি সারের সংকট

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২১:৪৬

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরে এমওপি (পটাশ) এবং ডিএপি সারের সংকট দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে আগাম জাতের আলু চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। ভুক্তভোগী তানোর পৌর এলাকার জিওল-চাঁদপুর গ্রামের কৃষক ওমর হাজী, আব্দুল গণি ও আব্দুল গাফ্ফার ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা কৃষি অফিসারকে দেওয়া হয়েছে।

কৃষক ওমর হাজী অভিযোগে বলেন, তানোরের শিব নদের বুকে রহিমাডাংগা মৌজায় বন্যার পানি নেমে যাবার পর তাদের জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ করে থাকেন। প্রতি মৌসুমের ন্যায় এবারও প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক দেড় হাজার বিঘা জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণের জন্য জমি চাষাবাদে নেমেছেন। কিন্তু বীজ ও জমি প্রস্তুত থাকলেও এমওপি (পটাশ) ও ডিএপি সার সংকটে তারা আলুর চারা রোপণ করতে পারছেন না। দুয়েক জন কৃষক বিভিন্ন কৌশলে বেশি দামে সার সংগ্রহ করে আলুর চারা রোপণ করছেন। কিন্তু অধিকাংশ কৃষক কোনো অবস্থায় সার সংগ্রহ করতে পারেননি। ফলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

কৃষক আব্দুল গাফ্ফার জানান, আলুর জমিতে যখন সার প্রয়োগের সময় তখনই এই সংকট। ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তায় ডিএপি সারের দাম নেওয়া হচ্ছে ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা। এছাড়া এমওপি (পটাশ) সারের দাম নেওয়া হচ্ছে ১০০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা।

তবে উপজেলার সার ডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মাদ আলী বাবু বলেন, এমওপি (পটাশ) সারের এখন কোনো সরবরাহ নেই। এছাড়া ডিএপির বদলে টিএসপি দিয়ে কৃষকদের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সবধরনের সার বিক্রি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসার শামিমুল ইসলাম বলেন, ডিলারদের মধ্যে সার বরাদ্দ বিভাজনের তথ্য তার জানা নেই। এমওপি (পটাশ) এবং ডিএপি সারের চাহিদামতো সরবরাহ নেই। এ জন্য সাময়িক সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দুয়েক দিনের মধ্যে চাহিদামতো বরাদ্দ পেয়ে যাব। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) পঙ্কজ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিষয়টি নিয়ে কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাহিদা মোতাবেক ডিএপি এবং পটাশ সরবরাহ পাওয়া যায়নি। ফলে আবারও ডিএপি এবং পটাশ সারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ পাওয়া গেলে সংকট থাকবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়া ডিএপি এবং পটাশ সংকট দেখিয়ে কৃষকের কাছে বেশি দাম নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।