জান-ই-আলম, আবুধাবি থেকে
নাসুম আহমেদ, মূলত বাঁহাতি স্পিনার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবুধাবিতে গতকাল বাংলাদেশের সেরা পারফরমার তিনি। ব্যাটিংয়ে অপরাজিত ১৯ রানের পর বোলিংয়েও ২৬ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
নয় নম্বরে নেমে নাসুমই বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার। ৯ বলে ১৯ রান করেছেন তিনি। যেখানে ১টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল। ব্যাটিং লাইনের লেজের ব্যাটসম্যান নাসুমের অবদান দলের স্কোরে এত বড় প্রভাব রাখছে, তাতেই স্পষ্ট ব্যাটিং কতটা ছন্নছাড়া ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং। গতকাল ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে মাহমুদউল্লাহর দল। সুপার-১২ পর্বে এসে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারলো টাইগাররা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে হাজির হন নাসুম। তিনি অকপটেই বলেছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা চেষ্টা করছেন ভালো খেলতে, জয় তুলে নিতে, কিন্তু পেরে উঠছেন না। হচ্ছে না তাদের দিয়ে। উইকেট বাংলাদেশের মতো ছিল না উল্লেখ করে নাসুম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এটা আসলে বাংলাদেশের মতো না। স্পিনাররা টার্ন পায়নি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম এই রানে যদি লড়াই করতে পারি। হয় নাই আমাদের দ্বারা।’
নাসুম বিশ্বাস করেন, এখনও ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। পরের ম্যাচটি জিতলে, বাকি দুই ম্যাচেও ভালো করা যাবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনট ম্যাচ আছে। এখান থেকে একটা ক্লিক করতে পারলে বাকি দুইটাও ক্লিক করতে পারব। আর একটা জিতলে পরের ম্যাচের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে যাব।’ ম্যাচ জয়ের প্রাণপণ চেষ্টা করছে বাংলাদেশ দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারের হতাশা পিছু ছাড়ছে না। নাসুম বলেছেন, ‘প্রত্যেক ম্যাচেই তো আমাদের চেষ্টা থাকে একটা ম্যাচ যাতে বের করতে পারি। অবশ্যই একটা ব্যাটসম্যান বা বোলার একটা পারফর্ম করলে জেতার একটা চান্স থাকে। একটা কথা বারবার বলছি আমরা চেষ্টা করছি আমাদের দ্বারা হচ্ছে না।’
বোলিংয়ে ১২৪ রানের পুঁজি নিয়ে লড়াইয়ের চিন্তা করেছিল বাংলাদেশ দল। নাসুম বলেছেন, ‘নামার আগে লক্ষ্য ছিল এই রান যাতে ডিফেন্ড করতে পারি। বাইরে থেকে অনেক কিছু বোঝা যায়। কিন্তু ভেতরে অন্যরকম।’ গরমের ক্লান্তি নয় হারের ধকলই দলটাকে নিষ্প্রাণ করে তুলছে। তবে প্রতিপক্ষের ভয়ে ভীত নয় টাইগাররা। নাসুম বলেছেন, ‘ভয় থাকলে ক্রিকেট হয় না। আমাদের কার মনে ভয় নেই।’
ডট বলের মিছিলেই সর্বনাশ
বাংলাদেশের আপামর ছাত্রছাত্রীদের কাছে ‘ইংলিশ’ পরীক্ষা সবসময় কঠিন হয়ে ধরা দেয়। টি-২০ ফরম্যাটে প্রথমবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ দলও যেন খেই হারিয়ে ফেলল। ইংল্যান্ডের বোলিং ও ব্যাটিং পুরোই দুর্বোধ্য হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে। আবুধাবিতে ইংলিশদের কাছে গতকাল দিকভ্রান্ত মনে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। বরাবরের মতোই ব্যাটিংই ডুবিয়েছে টাইগারদের। টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১২৪ রানের বেশি যেতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ডের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জবাব ছিল না ব্যাটসম্যানদের কাছে।
টি-২০ রানের খেলা। চার-ছক্কার বিনোদনই এখানে মূল কথা। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল সংগ্রামের মূর্তি। ব্যাটসম্যানরা বড় শট খেলতে পারছিলেন না। গোটা ইনিংসে ছিল মাত্র ১০টি চার ও দুটি ছয়। এবং দুটি ছক্কাই এসেছিল ৯ম ব্যাটসম্যান নাসুম আহমেদের ব্যাট থেকে। তবে ম্যাচে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে ডট বল খেলার মিছিল।
ব্যাটসম্যানরা ক্রমাগত ডট বল খেলেছেন। সিঙ্গেলসই বের করতে পারছিলেন না মঈন আলী, ক্রিস ওকসদের বোলিংয়ের বিপরীতে। ইনিংসজুড়ে ৫২টি ডট বল খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা। বাংলাদেশের ১২৪ রান এসেছে বাকি ৬৮ বল থেকে। টি-২০-তে এত ডট বল খেললে স্কোর বড় না হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নাঈম শেখ ৭ বলে ৫, সাকিব ৭ বলে ৪, মুশফিক ৩০ বলে ২৯, অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২৪ বলে ১৯, আফিফ ৬ বলে ৫, সোহান ১৮ বলে ১৬ রান করেছেন। গতকাল বাকিরা অবশ্য বলের তুলনায় রান বেশি তুলেছেন। একশোর বেশি স্ট্রাইক রেটে খেলেছেন শুধু নাসুম, লিটন ও মেহেদী। মাহমুদউল্লাহ, সাকিবরাও যদি অন্তত ১০০ স্ট্রাইক রেটে রান তুলতে পারতেন তবে হয়তো বাংলাদেশের স্কোরটা লড়াই করার মতো অবস্থানে থাকত। এটুকু নিশ্চিত যে, এত ডট বল খেললে টি-২০-তে কখনোই সফল হওয়া, বড় স্কোর সম্ভব না। রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছে। তারা ৩৫ বল হাতে রেখেই টার্গেট পাড়ি দিয়েছে। মরগান বাহিনী ২৫টি ডট বল খেলেছে। ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবি হচ্ছে বারবার। এসব নাকি ড্রেসিংরুমেও আলোচনা হয়।
স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড
টস :বাংলাদেশ
বাংলাদেশ রান বল চার ছয়
লিটন ক লিভিংস্টোন ব মঈন ৯ ৮ ২ ০
নাঈম ক ওকস ব মঈন ৫ ৭ ০ ০
সাকিব ক রশিদ ব ওকস ৪ ৭ ০ ০
মুশফিক এলবিডব্লিউ ব লিভিংস্টোন ২৯ ৩০ ৩ ০
মাহমুদউল্লাহ ক ওকস ব লিভিংস্টোন ১৯ ২৪ ১ ০
আফিফ রান আউট (মিলস/বাটলার) ৫ ৬ ১ ০
সোহান ক বাটলার ব মিলস ১৬ ১৮ ০ ০
মেহেদী ক ওকস ব মিলস ১১ ১০ ২ ০
নাসুম অপরাজিত ১৯ ৯ ১ ২
মুস্তাফিজ ব মিলস ০ ১ ০ ০
অতিরিক্ত (বা ১, লেবা ১, ও ৫) ৭
মোট (২০ ওভার, ৯ উইকেট) ১২৪
উইকেট পতনঃ ১-১৪ (লিটন, ২.২ ওভার), ২-১৪ (নাঈম, ২.৩), ৩-২৬ (সাকিব, ৫.২), ৪-৬৩ (মুশফিক, ১০.৪) ৫-৭৩ (আফিফ, ১২.৪), ৬-৮৩ (মাহমুদউল্লাহ, ১৪.৫), ৭-৯৮ (মেহেদী, ১৭.১), ৮-১২৪ (সোহান, ১৯.৫), ৯-১২৪ (মুস্তাফিজ, ২০)। বোলিং :মঈন ৩-০-১৮-২, ওকস ৪-০-১২-১, রশিদ ৪-০-৩৫-০, জর্ডান ২-০-১৫-০, মিলস ৪-০-২৭-৩, লিভিংস্টোন ৩-০-১৫-২।
ইংল্যান্ড রান বল চার ছয়
রয় ক নাসুম ব শরীফুল ৬১ ৩৮ ৫ ৩
বাটলার ক নাঈম ন নাসুম ১৮ ১৮ ১ ১
মালান অপরাজিত ২৮ ২৫ ৩ ০
বেয়ারস্টো অপরাজিত ৮ ৪ ১ ০
অতিরিক্ত (লেবা ৬, ও ৫) ১১
মোট (১৪.১ ওভার, ২ উইকেট) ১২৬
উইকেট পতনঃ ১-৩৯ (বাটলার, ৪.৫), ২-১১২ (রয়, ১২.৫)।
বোলিং :সাকিব ৩-০-২৪-০, মুস্তাফিজ ৩-০-২৩-০, শরীফুল ৩.১-০-২৬-১, নাসুম ৩-০-২৬-১, মেহেদী ২-০-২১-০।
ফল : ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচ সেরা : জেসন রয়।
