ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিটের ওয়েবিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী
ইত্তেফাক রিপোর্ট
ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত ডিউটি ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। তবে গ্র্যাজুয়েশনের পরও তিন বছর ডিউটি ফ্রি বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মত হয়েছে।
গতকাল বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২১ এর ‘ইকোনমিক টাই অফ বাংলাদেশ অ্যান্ড ইউরোপ :নিউ রেগুলেটরি রিজুম’ শীর্ষক ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা অব্যাহত রেখেছে, যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়। বাংলাদেশ বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার সকল বিধি-বিধান মেনেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে বলে জানান তিনি। টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সাথে এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষর করে বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রিজওয়ান রাহমান, বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ, বিজিএমই-এর সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. রুবানা হক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির এজাজ বিজয়, গ্রামীণফোন লিমিটেড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড-এর সিইও এবং ব্যবস্থপনা পরিচালক জাভেদ আকতার এবং ইয়ন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মমিন উদ-দৌলা প্রমুখ।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী সময়ে ইউরোপের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে রুল অফ অরিজিনের ক্ষেত্রে কঠিন নীতিমালার মুখোমুখি হতে হবে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে এফটিএ এবং পিটিএ স্বাক্ষর করা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিয়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, চার দশকে আমাদের তৈরি পোষাক খাতে প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে। তবে ইইউ কর্তৃক নতুন জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে আমাদের কমপ্লায়েন্সের ওপর আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
