বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে কোনো ফাটল নেই—দাবি ঠিকাদার ও নকশাকারী প্রতিষ্ঠানের

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৫

চট্টগ্রামে বহদ্দারহাটের এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র্যাম্পের পিলারে কোনো ‘ফাটল নেই’ বলে দাবি নকশাকারী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের। গতকাল বুধবার সকালে র্যাম্পটি পরিদর্শন করেন এর নকশা প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠান ডিজাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ডিপিএম) কনসালট্যান্ট লিমিটেড এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞরা। পরে দুপুরে নগরীর আলমাস মোড়সংলগ্ন এলাকায় ম্যাক্সের কার্যালয়ে তারা গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

এর আগে গত সোমবার রাতে নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে এম এ মান্নান ফ্লাইওভারের র্যাম্পের পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। রাতেই পুলিশ ঐ র্যাম্পে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ফাটল দেখে র্যাম্পের নির্মাণ ত্রুটি অথবা নকশাগত ত্রুটি থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন। মঙ্গলবার সকালে ফ্লাইওভারটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান হালকা যানের জন্য তৈরি র্যাম্পে ভারী যান চলায় ফাটল হয়েছে বলে জানান। পরে মঙ্গলবার বিকালে তিনি গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, সেখানে কোনো ফাটল হয়নি।

গতকাল বুধবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মনির হোসেন জানান, সেখানে কোনো ফাটল নেই। গাড়ি চলতে পারবে। তবে ভারী যানবাহন চলবে না। কারণ এটি ভারী যানবাহনের জন্য নকশা করা হয়নি। ভারী গাড়ি যাতে না উঠতে পারে সেজন্য র্যাম্পের মাথায় বেরিয়ার দিয়ে হালকা গাড়ি চলতে পারবে। এটা ফাটল নয়, এটা হলো কনস্ট্রাকশন                 জয়েন্ট। সাটার একটার ওপর আরেকটা বসানোর সময় মাঝখানে ফোম দেওয়া হয়। সেই ফোম এখনো মাঝখানে আছে। ওপরে উঠে আমরা দেখেছি। 

ম্যাক্স কার্যালয়ে মনির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ডিজাইনার প্রতিষ্ঠানের দল পরিদর্শন করেছে। উনাদের অবজারভেশন হলো, কলামগুলোতে যে ফাটল দেখতে পাচ্ছি সেটা ঐ ফাটল না। এটা কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। কলামের সঙ্গে টেক্সচারের কাস্টিংয়ের যে জয়েন্ট, সেই সাটারিংটা প্রপার পজিশনে ছিল না। কাস্টিং করার সময় ডিসপ্লেস হয়ে গিয়েছিল। যার কারণে একটা স্পেস সৃষ্টি হয়। সাটার টু সাটার জয়েন্টে ফোম ব্যবহার করা হয়। যাতে কোনো ওয়াটার লিকেজ না হয়। সেই ফোমটা আছে। এতদিন হয়তো চোখে পড়েনি। অরিজিনালি এটা কোনো ফাটল না।

র্যাম্পের অবকাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়নি দাবি করে মনির হোসেন বলেন, যেহেতু এটা ক্যান্টিলিভার, ১৩ মিটার প্রায়। এটার প্রান্তে কিছু সেটেলমেন্ট হবেই। উনাদের পর্যবেক্ষণ এখনো শেষ হয়নি। পরীক্ষানিরীক্ষা করে লিখিতভাবে সিডিএকে জানাবে। হালকা গাড়ি চলাচল এখনই খুলে দেওয়া যেতে পারে। স্ট্রাকচারাল কোনো ফল্ট পায়নি। তিনি বলেন, ফিজিক্যালি চেক করে কোনো ফাটল পায়নি। আরো নিশ্চিত হবার জন্য যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে ভিতরে কোনো ফাটল আছে কী নেই।

বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য নকশাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিএমের পরিচালক শাহ জাহান আলম সাংবাদিকদের বলেন, ওপরে উঠে দেখলাম ওটা ক্র্যাক না, কনস্ট্রাকশন জয়েন্ট। কনক্রিট করার সময় সেটা এক্সপোজ হয়ে যায়। ঢালাইয়ের সময় সাটারটা বের হয়ে আসে। মূল স্ট্রাকচারে কোনো সমস্যা নেই। নির্মাণ ত্রুটির কিছু না। হয়তো আরো পলিশ হতে পারত কাজটা। বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছে সেটা ফোম। সাড়ে তিন বছর আগেও সেটা ছিল। হয়তো কেউ খেয়াল করেনি। ভিতরে কোনো ক্র্যাক আছে কি না তা আরো তদন্ত করে দেখব। বাইরে থেকে স্ক্র্যাপিং করে দেখেছি। কনস্ট্রাকশন সাটার থেকে যেন পানি বের না হয় সেজন্য ফোম দিয়ে আটকানো হয়। সেটাই দেখা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, হালকা যানের জন্যই এই র্যাম্প তৈরি করা হয়েছে। এটার ওপর দিয়ে বড় অনেক গাড়ি গিয়েছে। শুরুতে ব্যারিকেড ছিল। এখনো সাইনবোর্ডটা আছে বামপাশে। কোনো কারণে তুলে  দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারী যান গিয়েছে। এটা একটা বক্স গার্ডার, এর ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কোথাও কোনো ফাটল নেই।

ডিপিএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এ সোবহান বলেন, আগেও ভারী যান চলাচল রিকমেন্ড করিনি। এখনো করছি না। এটা ভারী যানবাহনের জন্য ডিজাইন করা হয়নি। প্রয়োজনে ভিতরে পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখব। তারপর রিকমেন্ড করব। যেন হালকা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যায়। ধাপে ধাপে দেখছি। তদন্ত  শেষ না হলে এখন কিছু বলতে পারছি না।

ম্যাক্সের প্রকৌশলী মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ‘র্যাম্পটা মূল ফ্লাইওভারের পরে তৈরি করা হয়। প্রচণ্ড যানজট হয় বলে তখনকার সিডিএ চেয়ারম্যানের অনুরোধে এই র্যাম্প বসানো হয়। যদি ফ্লাইওভারের সঙ্গে তৈরি হতো তাহলে লোডিং ক্যাপাসিটি একই থাকত। এটা একটা ক্যান্টিলিভার পার্ট দিয়ে বক্স গার্ডার দিয়ে বিদ্যমান অংশের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ইউটিলিটি সংযোগসহ নানা কারণে ১৩ মিটার দূরে পাইল করা হয়েছে। এত জটিল এই ডিজাইন। তখন জানানো হয়, শুধু হালকা যানের জন্য এটা ডিজাইন করা। সিডিএ চেয়ারম্যান তাতে সম্মতি দেন। তিনি বলেন, শুরুতে হালকা গাড়ি চললেও পরে দেখা গেল হেভি লোডেড বিলেটবাহী ৪০-৫০ টন গাড়ি ওপর দিয়ে চলছে। যার কারণে সামনের পাইল সেটেল হয়ে যাচ্ছে। দরকার ছিল বেরিয়ার আবার বসিয়ে দেওয়া।