মিতু হত্যা মামলা

বাবুলের নারাজি আবেদনের বিষয়ে আদেশ ৩ নভেম্বর

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৮

চট্টগ্রামে গৃহবধূ মাহমুদা খানম মিতু হত্যার ঘটনায় স্বামী বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীর নারাজি আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ রহমানের আদালতে বাদীর উপস্থিতিতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির পর আদালত ৩ নভেম্বর আদেশ প্রদানের দিন ধার্য করে।

বাবুল আক্তারের আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, মিতু হত্যার প্রথম মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানিতে আমি বলেছি, মামলার দুই জন আসামি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন মুসার নির্দেশে তারা মিতুকে খুন করেছেন। মুসাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে ফেলেছেন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তারা সফটওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইলের কললিস্ট পর্যালোচনা করেছেন। কিন্তু কোথাও বাবুল আক্তারের সঙ্গে মুসার যোগাযোগের প্রমাণ পাননি। পাঁচ বছর পর উদ্দেশ্যমূলকভাবে মোবাইল কললিস্টের সূত্র ধরে    বাবুল আক্তারকে ফাঁসানো হয়েছে বলে বাদীর কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আদালত বক্তব্য শুনেছেন এবং গ্রহণ করেছেন। ৩ নভেম্বর আদেশ প্রদানের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নারাজি আবেদনের শুনানির জন্য গত মঙ্গলবার বাবুল আক্তারকে ফেনী কারাগার থেকে চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। বুধবার বেলা পৌনে ১১টায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় তাকে ধীরস্থির ও শান্ত অবস্থায় দেখা যায়।

২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে নগরীর ওআর নিজাম রোডে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন তত্কালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বাবুল আক্তার। এ বছর ১২ মে আদালতে ঐ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা। একই দিন পাঁচলাইশ থানায় নুতন একটি হত্যা মামলা করেন নিহত মিতুর পিতা মোশাররফ হোসেন। একই দিন বাবুলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।