কাপ্তাইয়ে নির্বাচনি সহিংসতায় ইউপি সদস্য নিহত

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৮

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নতুন বাজার মা বেকারির সামনে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত ইউপি সদস্যের নাম সজিবুর রহমান (৪০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিন জন। এরা হলেন মো. আলাউদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন ও আব্দুল জলিল। আহতরা উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নিহত সজিব আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফের সমর্থক। লতিফের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন পাটোয়ারী বাদল। ঘটনার রাতে নতুন বাজার এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ঝগড়া হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এ সময় ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করায় গুরুতর আহত হন সজিবুর রহমান। স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানেই চিকিত্সকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক ওমর ফারুক জানিয়েছেন, রাতে আহত আবস্থায় চার জনকে হাসপাতালে আনলে সজিবুর রহমান মারা যান, বাকি তিন জনের চিকিত্সা চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রওশন আরা রব জানিয়েছেন, নতুন বাজারে চায়ের দোকানে বসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের হাতাহাতি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

সজিবুর ৪ নম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এবং রাঙ্গামাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ছিলেন। আগামী ১১ নভেম্বর কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঐ নির্বাচেনেও তিনি সদস্য পদে প্রার্থী হন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছছের হোসেন বলেন, সজিব হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এদিকে সজিবুর রহমান হত্যার প্রতিবাদে বুধবার সকালে কাপ্তাই উচ্চবিদ্যালয়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর রাতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে কাপ্তাইয়ের চিত্মরম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নেথোয়াই মারমা নিহত হন। এ নিয়ে নির্বাচনি সহিংসতায় এক মাসে উপজেলায় দুই জন নিহত হলেন।

গোয়ালঘরে প্রতিহিংসার আগুন, পুড়ল দুই গরু

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বাইরপাড়া গ্রামের নৌকার সমর্থক মো. মফিজুর ফকিরের গোয়ালঘরে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় গোয়ালে থাকা দুটি গরু ও একটি ছাগল পুড়ে মারা যায় এবং বসতঘরে থাকা প্রায় ৫০ মণ পাট, ২৫ মণ খেসারি পুড়ে যায়। এ ব্যাপারে মফিজুর ফকির বলেন, ‘আমরা ঘটনার সময় পাশের বাড়িতে বসে নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজী জাহাঙ্গীর আলমের নির্বাচনি মিটিং করছিলাম। এ সময় আমার গোয়ালঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।’