খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৯

খুলনার কয়রায় স্বামী, স্ত্রী ও মেয়েসহ চাঞ্চল্যকর ট্রিপল হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে তত্পর রয়েছে পুলিশ। তবে গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত হাবিবুল্লাহর মা কোহিনূর খানম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কয়রা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের এক নারীসহ চার জনকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে কোনো ক্লু পাওয়া গেছে কি না, সে ব্যাপারে পুলিশ কোনো তথ্য দেয়নি। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে শোনা জমিসংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ।

কয়রা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহাদাত্ হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে মঙ্গলবার সারা রাত অভিযান চালানো হয়েছে। তবে এই অভিযানে কেউ গ্রেফতার হয়নি।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারে জোরালোভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। রহস্য উদ্ঘাটন হলেই জানানো হবে।’ তবে বুধবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।  উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে দুর্বৃত্তরা স্বামী হাবিবুল্লাহ, স্ত্রী বিউটি খাতুন  ও তাদের একমাত্র মেয়ে স্থানীয় জায়গীরমহল উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী হাবিবা খাতুন টুনিকে হত্যা করে। পরে তাদের লাশ বামিয়া গ্রামের বাগালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। নিহত তিন জনের মধ্যে হাবিবুল্লাহর শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘাড় থেকে তার মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দড়ি দিয়ে তার হাত-পা বাঁধা ছিল। এছাড়া তার মেয়ে টুনির কপালেও ধারালো অস্ত্রের বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে হাবিবুল্লাহর স্ত্রী বিউটি খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের ধারণা। নিহত হাবিবুল্লাহ কৃষিকাজ ও রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করতেন। তিনি কয়রা উপজেলার বামিয়া গ্রামের মৃত মাজেদ গাজীর ছেলে।