সিলেটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৩৯

সিলেটে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী তা সরবরাহ করা হচ্ছে না। প্রতিদিন যেখানে তিন ওয়াগন জ্বালানি তৈল সরবরাহ করার কথা, সেখানে মাত্র এক ওয়াগন সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সিলেটের ১১৪টি পেট্রোল পাম্পের মজুত প্রায় ৪০ লাখ লিটার শেষ হয়ে ট্যাংকগুলো প্রায় ড্রাই হতে চলছে। নভেম্বর-মার্চ মাসে সিলেট অঞ্চলে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু এ মৌসুমে সে অনুযায়ী তেল সরবরাহ হয় না। সূত্র মতে, বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে  মাত্র ১ থেকে সোয়া লাখ লিটারের মতো। এদিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সিলেটে জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় শাখার নেতৃবৃন্দ। বিষয়টি তারা জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন বলে গতকাল ইত্তেফাককে জানান, অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।

তেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে তেলের সংকট না থাকা সত্ত্বেও সরকারের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই কৃত্রিমভাবে এই সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা জানান, বর্তমানে যে তেল সরবরাহ হচ্ছে তা সিলেটের চারটি ডিপোর মধ্যে ভাগ করে নিতে হয়। এজন্য কোনো কোম্পানিই তাদের গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। ব্যবসায়ীরা এ সংকটের জন্য পদ্মা, মেঘনা, যমুনা কোম্পানীর জেলা বিপণন কর্মকর্তাদের অদক্ষতাকে দায়ী করে অবিলম্বে তাদের অপসারণ দাবি করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুলস্থ একটি কনভেনশন হলে জরুরি সভায় মিলিত হয়ে তারা এ হুঁশিয়ারি দেন। সভায় তারা  বলেন, সিলেটে জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। তেল সংকটের কারণে দিনে দিনে স্থবির হয়ে পড়ছে এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন খাতের মানুষের জীবনযাত্রা। এ সংকটের জন্য সংশ্লিষ্টরা রেলের ওয়াগন সংকটকে দায়ী করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেল উত্পাদন বন্ধ থাকার কারণে এ সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন বক্তারা।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন—খান মো. ফরিদ উদ্দিন, নুরুল ওয়াছেহ আলতাফী, হুমায়ুন আহমেদ, সায়েম আহমেদ, জুবের আহমেদ চৌধুরী খোকন, ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান, সিরাজুল হোসেন আহমদ, সাহেদ আহমদ চৌধুরী, এনামুল হক রুবেল, রিয়াদ উদ্দিন, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।