ম্যাচ শেষে দুই দলের ক্রিকেটারদের হাত মেলানোর পর্ব সম্পন্ন হয়ে গেছে। গ্যালারির আনন্দ-উত্সব ততক্ষণে থেমে গেছে। আবুধাবিতে তখনো সূর্যের তাপ কমেনি। মরুময় শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে সূর্যাস্ত ঘনিয়ে আসেনি। কিন্তু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন ঠিকই অস্তাচলের পথে পা বাড়িয়েছে।
সুপার-১২ পর্বে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। গতকাল ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তাই পায়নি টাইগাররা। ব্যাটে-বলে যেন আত্মসমর্পণই করলেন মাহমুদউল্লাহরা। দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে স্কিল, টেকনিকের বিস্তর পার্থক্য দেখা গেছে। যে উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ধুঁকলেন রান তুলতে, সেখানেই ইংলিশরা অনায়াসে পাড়ি দিল টার্গেট। গতকাল টি-২০ তে প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
আরো তিনটি ম্যাচ বাকি আছে বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে আগামীকাল নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে জিততেই হবে টাইগারদের। যেখানে প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শারজাহতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১২৪ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। জবাবে ১৪.১ ওভারে ২ উইকেটে ১২৬ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। হাফ সেঞ্চুরি করা জ্যাসন রয় ম্যাচসেরা হন।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে ম্যাচ না জিততে পারলেও নিয়মিত ‘টস’ ভাগ্যের খেলায় জয়ের দেখা পাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। গতকাল ইংলিশ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপক্ষে রান তুলতে সংগ্রাম করেছেন ব্যাটসম্যানরা। ১২০ বলের মধ্যে ৫২টি ডট বল খেলেছেন সাকিব-মুশফিকরা। যার ফলেই স্কোরটা বড় হয়নি। টি-২০ তে এত ডট বল খেলাটা কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার পথই সুগম করে।
পাঁচ ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘর পার হতে পেরেছেন। ইনিংস সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ ১৯, সোহান ১৬, মেহেদী ১১ রান করেন। বাংলাদেশের স্কোরটা ১০০ পার হয়েছিল নাসুম আহমেদের ৯ বলে অপরাজিত ১৯ রানের ইনিংসের কল্যাণে।
ইনিংসের শুরুতে ১৪ রানেই নেই ২ ওপেনার। ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রেখে লিটন দাস ৯, নাঈম ৫ রান। সাকিব ৪ রান করে আউট হলে ২৬ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর ৩৭ রানের জুটিটা ভেঙেছে মুশফিকের দৃষ্টিকটু রিভার্স সুইপের কারণে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে আফিফ (৫) রানআউট হন। শেষ দিকে সোহান, মেহেদীরা চেষ্টা করলেও দলের স্কোরটা বলার মতো অবস্থানে যায়নি। ইংল্যান্ডের টাইমাল মিলস ৩টি, মঈন আলী-লিভিংস্টোন ২টি করে, ক্রিস ওকস ১টি উইকেট নেন।
টার্গেটটা বড় ছিল না। ইংলিশরা নিরাপদেই লক্ষ্যের পথে হেঁটেছে। ৩৯ রানে বাটলার নাসুমের শিকার হন। তিনি ১৮ রান করেন। জ্যাসন রয়-মালানের ৭৩ রানের জুটিতে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। শরীফুলের প্রথম বিশ্বকাপ উইকেট হওয়ার আগে জ্যাসন রয় ৩৮ বলে ৬১ রান (৫ চার, ৩ ছয়) করেন। পরে দাভিদ মালান, বেয়ারস্টো দলের জয় নিশ্চিত করেই ফিরেন। মালান অপরাজিত ২৮, বেয়ারস্টো অপরাজিত ৮ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১২৪/৯
ইংল্যান্ড : ১৪.১ ওভারে ১২৬/২
ফল : ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী
