পাটুরিয়া ঘাটে ১৭ ট্রাক নিয়ে ডুবে গেছে ফেরি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ২২:৪৬

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি শাহ আমানত পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পরপরই গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কাত হয়ে অর্ধেক ডুবে যায়। ঐ ফেরিতে ১৭টি পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়াও কয়েকটি মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার ছিল। ঘাটে ভেড়ার পর দুটি কাভার্ড ভ্যান ও একটি ট্রাক নামতে পারলেও বাকিগুলো ফেরির সঙ্গেই ডুবে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

ঘটনা তদন্তে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন-৪ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের পৃথক কমিটি গঠন করেছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে নৌপরিবহন সচিবের কাছে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

ঘাটের কাছে কাত হয়ে অর্ধেক নিমজ্জিত অবস্থায় থাকা ফেরি শাহ আমানতকে তুলতে উদ্ধারকারী নৌযান হামজা দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ভেতরে কেউ আটকা পড়ে রয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা তল্লাশি চালান। ইতিমধ্যে হামজা ১৪টি যানবাহনের অবস্থান নির্ণয় করেছে। এর মধ্যে চারটি ট্রাক ও একটি মোটরসাইকেল ওপরে টেনে তোলা হয়েছে।   ডুবে যাওয়া ফেরি শাহ আমানত আশির দশকে নির্মিত বলে জানা গেছে। ফেরির মাস্টার শরিফুল ইসলাম লিটন জানান, চার মাস আগে ফেরিটি নারায়ণগঞ্জ থেকে মেরামত শেষে পাটুরিয়ায় আসে। তবে সম্প্রতি তলদেশে একটি ফুটো তৈরি হয়। তিনি আরো জানান, সকালে রওনা দেওয়ার কিছু সময় পর তলদেশের ফুটো দিয়ে পানি উঠতে শুরু করে। কিন্তু তিনি যখন বিষয়টি টের পান তখন আর কিছু করার ছিল না।

জানা গেছে, ফেরিটির ভেতরে পানি ঢুকে এটির ওজন হাজার টনের বেশি দাঁড়িয়েছে। কিন্তু হামজার সক্ষমতা মাত্র ৬০ টন। উদ্ধারকাজে হামজাকে সাহায্য করতে ২৫০ টন উদ্ধার সক্ষমতার জাহাজ প্রত্যয়কে আনা হচ্ছে। কীভাবে ফেরিটিকে উদ্ধার করা যাবে সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।  মূল সমস্যা ফেরিটিকে টেনে তোলা।

ফেরিতে ছিলেন যাত্রী আবদুর রাজ্জাক। তিনি জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ঘাট থেকে ফেরিটি যখন মাঝনদীতে পৌঁছায়, তখনই সামনের দিকে ডান পাশে থাকা একটি ছিদ্র দিয়ে পানি উঠতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে ফেরির ভেতর পানি জমে যায়। ফেরিতে পানি উঠতে দেখে স্টাফসহ যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চিত্কার শুরু করেন। পরে ফেরির মাস্টার ইঞ্জিনের গতি বাড়িয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যে ফেরিটি পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। পন্টুনের সঙ্গে রশি না বাঁধতেই ফেরির ডালা নামিয়ে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ফেরিঘাট এলাকায় নদীতে ১০/১৫ ফুট গভীরতা রয়েছে। পানির স্তর থেকে প্রায় ৩৫ ফুট উচ্চতার তিন তলাবিশিষ্ট এ ফেরিতে ২৮-৩০টি ট্রাক বহনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রায় ৪০০ টন ওজনের ভারী আকৃতির এ ফেরিতে বাস-কার মিলিয়ে প্রায় ৩০/৩২টি যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে।

বিআইডব্লিউটিসি আরিচা সেক্টর ডিজিএম জিল্লুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, কাত হয়ে থাকা ফেরি উদ্ধারের কৌশল নিয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফেরিতে থাকা মালবোঝাই ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনসহ মালপত্র উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত ছিল। সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি, মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. গোলাম খান আজাদ, উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউর রহমান খান, ইউএনও জেসমিন সুলতানা প্রমুখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।