নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী --------ব্রিটিশ হাই কমিশনার

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ০০:২৫

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন বলেছেন, বাংলাদেশে নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটি বিদেশিদের বলার কথা নয়। এটি নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ডিকাব টকে তিনি এ কথা বলেন। ডিকাব সভাপতি পান্থ রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য কীভাবে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেটি আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাজ্য। আগামী সাধারণ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার এবং ভোটারদের সুরক্ষার জন্য একজন বাইরের বন্ধু হিসেবে যতটুকু সহায়তা করা সম্ভব আমরা করব।’ তিনি বলেন, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী যেন অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, সেটি জরুরি। এটি অবশ্যই নির্ভর করবে বাংলাদেশের জনগণের ওপর। নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটি ঠিক করবে বাংলাদেশ।

হাইকমিশনার জানান, যুক্তরাজ্যের বাজারে ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা পাবে বাংলাদেশ। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হতে চলেছে। এই উন্নতি অব্যাহত রাখতে পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গেছে এবং এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যনীতি কী হবে, সেটি স্বাধীনভাবে বিবেচনা করার সুযোগ পেয়েছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বিনিয়োগ সংলাপ হয়েছে।

তিনি বলেন, এইচএসবিসি, ইউনিলিভারসহ যুক্তরাজ্যের অনেক বড় কোম্পানি এখানে ব্যবসা করছে এবং আরো অনেকে এখানে ব্যবসা করতে পারে যদি বাজারসুবিধা পায়। তিনি বলেন, ‘আগামী দশকে আমরা বাণিজ্য, নিরাপত্তা, সমুদ্র নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্পৃক্ত হব।’

যুক্তরাজ্যে বসে বাংলাদেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছেন কিছু বাংলাদেশি। তাদের ফেরত আনার জন্য মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তি করতে চায় সরকার। কিন্তু ঐ দেশ থেকে কোনো ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পুরোপুরি আদালতের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, ‘কার কার প্রত্যাবর্তন চাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলব না, কারণ তা ঠিক হবে না।’

তার মতে, প্রত্যাবর্তন একটি আইনি প্রক্রিয়া। অনেক ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন হয়তো দেশের জনগণ চায়, কিন্তু সেটা ব্রিটিশ সরকারের ওপর নির্ভর করে না, করে আদালতের ওপর। এছাড়া প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে এর সঙ্গে জড়িত পক্ষগুলো বেশ শক্ত লড়াই করে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, আদালত অনেক কিছু বিবেচনা করে। যেমন—অভিযোগ কী আছে বা ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানো হলে তার কী শাস্তি হতে পারে ইত্যাদি। কাউকে ফেরত পাঠানোর কিছু মেকানিজম আছে। যেমন মিউচুয়াল লিগাল অ্যাসিস্ট্যান্স। নেতিবাচক প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যে পরিষ্কার নিয়ম আছে। কেউ যদি ঘৃণা বা উসকানিমূলক মন্তব্য করে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-২৬ সম্মেলন নিয়ে তিনি বলেন, সেখানে বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সম্মেলন জলবায়ু পরিবর্তনের বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানোর এবং এই গ্রহের সবার উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করার শেষ সুযোগ।