মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো আশানুরূপ নয়

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩০

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো আশানুরূপ নয়। বাংলাদেশে উত্পাদিত তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণের অভাব, অদক্ষ মানব সম্পদ, হালাল পণ্য রপ্তানিতে প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট ও টেস্টিং ল্যাবরেটরির অনুপস্থিতি এর বড় কারণ। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকার চুক্তি না থাকায় সেখানকার দেশগুলোতে বাংলাদেশি পণ্য প্রত্যাশিত হারে রপ্তানি করা যাচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলনের ৩য় দিন গতকাল এই ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আলহোমদি যথাক্রমে প্রধান অতিথি এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। ওয়েবিনারের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, আমাদের মোট রপ্তানির মাত্র ৩ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রপ্তানি হয়ে থাকে। মোট আমদানিকৃত খনিজ পদার্থের ১৯ শতাংশ সেখানকার দেশগুলো হতে আমদানি করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের মোট রেমিট্যান্সের ৫৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হতে এবং বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মসিউর রহমান বলেন, আমাদের অর্থনীতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়ে শ্রমভিত্তিক শিল্প থেকে সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যকার সমন্বয় বেড়েছে, আশা প্রকাশ করেন সামনের দিনগুলোতে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ, এপিআই, গৃহস্থালিতে ব্যবহূত ইলেকট্রনিক সামগ্রী, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। তিনি যে কোনো দেশে বিনিয়োগের পূর্বে সেখানকার বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা গ্রহণের জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আলী আলহোমদি বলেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত উত্কৃষ্ট স্থান, সেখানে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি জানান, দুদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ-ইউএই বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ওয়েবিনারে নির্ধারিত আলোচনায় ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর শামীম উল হক, আরএসএ অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড আরএসএ ক্যাপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান কে মাহমুদ সাত্তার, লাল তীর সিড লিমিটেডের পরিচালক তাজওয়ার এম আউওয়াল, প্লামি ফ্যাশনস্ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক এবং সাউদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এক্সপোর্ট কোম্পানির সিইও সুলাইমান আল জেদাই প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।