প্রায় ১০ হাজার জেলে এখন দুবলার চরে

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ২১:৩৩

শুঁটকিকরণের জন্য প্রায় ১০ হাজার জেলে এখন দুবলায় অবস্থান করছেন। জেলেরা মৌশুমের শুরুতে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাত্ দুর্যোগের কবলে পড়েন। উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে না পেরে তারা চরে ফিরে এসেছেন। দুবলার চারটি চরে প্রায় ১০ হাজার জেলে তাদের মাথা গোঁজার জন্য অস্থায়ী ছাউনি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলারচর থেকে মুঠোফোনে জানান, শুঁটিকি মৌসুমের শুরুতে জেলেরা তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরার জন্য মঙ্গলবার সকালে বঙ্গোপসাগরে যান। মঙ্গলবার বিকাল থেকে সাগরে আকস্মিক প্রবল ঢেউ ও দমকা বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেরা সন্ধ্যা থেকে তীরের দিকে ছুটতে থাকেন। দুবলার আলোরকোলে তিন শতাধিক জেলে নৌকা নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এছাড়া অনেক জেলে তাদের মাথা গোঁজার জন্য বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে অস্থায়ী ছাউনি নির্মাণে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে ফিশারমেন গ্রুপের চেয়ারম্যান জানান।

দুবলার মাঝেরকেল্লা থেকে পিরোজপুরের জেলে আলাল হোসেন জানান, মৌশুমের শুরুতে প্রথমবার মঙ্গলবার সকালে সাগরে মাছ ধরতে যাই। বিকালে সাগরে হঠাত্ করে সৃষ্ট প্রচণ্ড ঢেউয়ের সঙ্গে বৃষ্টির কারণে থাকতে না পেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা তীরে ফিরে এসেছেন। দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহলাদ চন্দ্র রায় মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, বুধবার দুপুর পর্যন্ত দুবলা অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে ফিরে এসেছেন। সাগরে মাছ ধরে শুঁটকিকরণের জন্য দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়ীয়া ও শ্যালারচরে প্রায় ১০ হাজার জেলে অবস্থান নিয়েছেন। এ বছর জেলেদের অস্থায়ীভাবে থাকার জন্য ৯৮৫টি জেলে ঘর, ৬৬টি ডিপো ঘর এবং ৯৬টি দোকানঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জেলেরা ঘর নির্মাণের জন্য সুন্দরবনের কোনো বনজদ্রব্য ব্যবহার করতে পারবেন না। তাদের বাঁশ, খুঁটি ও  ত্রিপল  ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।