চলতি বছরের মধ্যে দেশে ফাইভজি চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। আর এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশে গড়ে উঠছে ১ হাজার জিবিপিএস সক্ষমতার উচ্চগতির অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিযোগাযোগ কোম্পানি বিটিসিএল। একই সঙ্গে প্রত্যেক জেলা ৩০০ জিবিপিএস এবং উপজেলা ১০০ জিবিপিএস সক্ষমতার অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন ‘টিআরএনবি’র সদস্যদের সঙ্গে একটি যৌথ কর্মশালায় এসব তথ্য জানিয়েছেন বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. রফিকুল মতিন। কর্মশালায় আরো বক্তব্য দেন বিটিসিএলের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) এ কে এম হাবিবুর রহমান, এমওটিএন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আসাদুজ্জামান চৌধুরী, টিআরএনবির সভাপতি রাশেদ মেহেদী এবং সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে। কর্মশালা সঞ্চালনা করেন বিটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মীর মোহাম্মদ মোরশেদ।
বিটিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিতরণে ১২টি ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ (নিক্স) স্থাপন করা হবে। বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ফাইভজি প্রযুুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিটিএল সারা দেশে নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য একটি ব্যাপকভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশকে আটটি অঞ্চলে ভাগ করে ১ হাজার জিবিপিপিএস, ৮০০ জিবিপিএস এবং ৬০০ জিবিপিএস নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে। অঞ্চলগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, খুলনা এবং বরিশাল।
বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, ফাইভজি প্রযুক্তির সত্যিকারের সেবা নির্ভর করবে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের সক্ষমতার উপর। বিশ্বব্যাপী বলা হচ্ছে, ‘নো ফাইবার, নো ফাইভজি’। এ কারণে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের সবচেয়ে বড় ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক সেবাদাতা কোম্পানি হিসেবে বিটিসিএল এমন একটি শক্তিশালী অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে যাচ্ছে, যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে রাখতে সক্ষম হবে।
