দেশের বাংলা ছায়াছবির পুরনো জনপ্রিয় গান ‘আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন/কপোলের কালো তিল পড়বে চোখে’ রাজ্জাক-শবনম অভিনীত জনপ্রিয় এই গানটি এখনো শ্রোতাদের মুখে। এর পরও আয়না কথাটা প্রচলিত মুখে মুখে। রাগ করে হোক আর ঝগড়া করেই হোক। প্রতিপক্ষের অপরাধ আছে—এমনটি বুঝাতেও রাগ করে একজন আরেক জনকে বলেন আয়নায় নিজের মুখ দেখো। কিন্তু খেলার মাঠে আয়না নিয়ে কথা উঠেনি। অথচ এবার টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়ে উঠছে আয়না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে লেজেগোবরে পারফরম্যান্স করেছে। দেশের ক্রিকেটানুরাগীরা ক্ষুব্ধ। যারা বাংলার ক্রিকেটারদের ভালোবাসেন সেসব চরিত্রগুলোই ক্রিকেটারদের সমালোচনা করেছেন। সমালোচনার আগুনে ঘি ঢেলেছেন মুশফিকুর রহিম। সমালোচকদের উদ্দেশে বললেন, ‘যারা এরকম কথা বলে তারা নিজেদের মুখটা আয়নায় দেখে নেয়া উচিত। কারণ তারা বাংলাদেশের পক্ষে খেলে না। আমরাই খেলি।’
সমালোচনা শুনতে পছন্দ করেন না ক্রিকেটাররা। ভক্তরা ভালোবাসলে সেটি গ্রহণ করবেন আর গালমন্দ করলে সমালোচনা করলে সেটি গ্রহণ করবেন না এই মনমানসিকতা পেশাদারিত্বে পড়ে না বলে মন্তব্য টিভির পর্দায় টকশোতে আসা সাবেক ক্রিকেটারদের। তারা বলছেন অন্যরা সমালোচনা করুক। খেলোয়াড়রা সেদিকে না কান দিয়ে খেলায় মনোনিবেশ করলেই ভালো। ভারতের কিংবদন্তী শচীন টেন্ডুলকার শতকোটি মানুষের চাপ সামাল দিয়ে ২২ গজে লড়াই করেছেন। পারফরম্যান্স ভালো হয়নি বলে শচীনের বাড়িতেও হামলা হয়েছিল।
বিসিবির পরিচালক জালাল ইউনুস একটি টিভি সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ‘একজন প্লেয়ার আয়নায় চেহারা দেখতে বলেছে। ওদিকে মনোযোগ না দেওয়াটাই ভালো। এটা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর। এটা সবার জন্যই বিব্রতকর। আমরা চাই তারা (খেলোয়াড়রা) পাবলিক প্লেসে গিয়ে কমেন্ট না করুক।’ ওমান এবং পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে সুপার টুয়েলভ নিশ্চিত করার পর বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বক্তব্যেও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন সমালোচনা করে কেউ যদি কাউকে ছোট করে ফেলে তখন খারাপ লাগে। আর টিভি সাক্ষাত্কারে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘এটা যদি মনে করে আমি যাই করি কেউ কিছু বলবে না। এটা ভুল। প্রশ্নই ওঠে না। আবার ভুল করলে আবার বলা হবে।’
সংবাদমাধ্যমকে জালাল ইউনুস জানিয়েছেন বিসিবি হতে আমরা দলের সঙ্গে থাকা মিডিয়া ম্যানেজারকে রাবিদ ইমাকে জানিয়েছি খেলোয়াড়রা যেন এ ধরনের কোনো কমেন্ট করা হতে বিরত থাকেন।’
খেলোয়াড়দের মন্তব্যে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল এরপরই আবার ইংল্যান্ডের কাছে লজ্জার হার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন ব্যাটিং পিচ আসবে, তাই ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই একই পিচে খেলে ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা রানের ঝড় তুললেন, ম্যাচ জিতলেন ৬ উইকেটে। এবার কারা আয়নায় মুখ দেখবেন। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সমালোচনা ভুলে খেলায় ফোকাস করুক সবাই।
আজকে যদি বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচ জিতত, তাহলে এত কথা হতো না। এভাবে হারটা মেনে নিতে পারেননি দর্শক কিংবা ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে মাঠের উত্তেজনা প্রায় শেষ। একটার পর একটা ম্যাচে যখন হারছে তখন আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলার ক্রিকেটাররা আবার জ্বলে উঠুক। নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে মন দেবে। আবার ২২ গজে ঝড় তুলুক—এটাই সবাই দেখতে চায়। বিসিবি কিংবা দেশের সাবেক ক্রিকেটার কিংবা যারা ক্রিকেট ভালোবেসে জীবন দিয়ে ফেলে তারা চায় মুশফিক, সাকিব, মাহমুদউল্লারা নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিক। আবার ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ আওয়াজ তুলে আকাশ ফাটিয়ে দিক সমর্থকরা।
