আসন্ন দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন দলীয় আট জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে সাত সংসদীয় আসনে ৮৮ ইউপিতে প্রার্থিতা উন্মুক্ত করেছে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড। অর্থাত্, এই ৮৮ ইউপিতে নৌকার কোনো প্রার্থী থাকবেন না। আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বাকি এক সংসদ সদস্যের আবেদনের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। ইতিমধ্যে ঐ আসনের ইউপিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণাও করা হয়েছে। এদিকে মনোনয়নবঞ্চিত তৃণমূলের দুই শতাধিক নেতাও ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে লিখিতভাবে দলীয় প্রার্থী উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে বলেছেন, যেহেতু বিএনপি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না, তাই সব ইউপিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখুন। কার জনপ্রিয়তা বেশি সেটা নির্বাচনের মাঠেই প্রমাণিত হবে।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা নিয়ে আওয়ামী লীগে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রিতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের একজন সদস্য জানান, যেসব স্থান আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেসব জায়গার এমপিদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এটা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করা সংসদ সদস্যরা হলেন, গোপালগঞ্জ-২ আসনের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাদারীপুর-১ আসনের নূর-ই-আলম চৌধুরী, মাদারীপুর-২ আসনের শাজাহান খান, মাদারীপুর-৩ আসনের ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, শরীয়তপুর-১ আসনের ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর-২ আসনের এ কে এম এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুর-৩ আসনের নাহিম রাজ্জাক ও নাটোর-৪ আসনের আব্দুল কুদ্দুস। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ১ হাজার ৮৫৫ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন যথাক্রমে আগামী ১১ ও ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপের সাতটি ও দ্বিতীয় ধাপের ৮১ ইউপিতে নৌকার কোনো প্রার্থী নেই। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই ৮৮ ইউপিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের পাঁচ শতাধিক নেতা। কোনো কোনো ইউপিতে ১০ থেকে ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনি লড়াইয়ে মাঠে রয়েছেন। শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলার ছয় এমপি এ দুই জেলার ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবাই আওয়ামী লীগের সমর্থক হওয়ায় দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার অনুরোধ করে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শরীয়তপুর জেলায় তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় ৫৫টি ইউপিতে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা হলো। অবশ্য প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ৯টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মাদারীপুর জেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ২৬ ইউপি নির্বাচনে নৌকার একক প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে এ জেলার তৃতীয় ধাপের ২৬ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় ধাপের অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার (গোপালগঞ্জ-২ নির্বাচনি এলাকার আওতাধীন) সাতটি ইউপিতে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই ইউনিয়নগুলো দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নির্বাচনি এলাকা। এছাড়া আরো অনেক এমপি প্রার্থিতা বদল করার আবেদন জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ মনোনীত অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের নেতারা কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তৃণমূল নেতারা দল মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই নৌকার মনোনয়ন পেয়ে গেছেন স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান, বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগাররা। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বুধবার বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই এখন একে অপরের দিকে রাজাকারের তকমা লাগানোর চেষ্টা করছেন।’ বুধবার অধিকাংশ অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি দাবি করে প্রার্থিতা বদল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। জানা গেছে, গতকাল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থী বদলের নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী অভিযোগগুলো আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার আবারও যাচাই-বাছাই করা হবে। একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম যারা তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
