সামান্য মনোযোগে ঢাকা হবে আকর্ষণীয়

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২১:০১

আমরা প্রায়ই বলে থাকি ঢাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। তারপরও আমরা এই অযোগ্য শহরে বসবাস করি! একটা শহরকে ভালো রাখতে হলে সেই শহরের যত্ন অপরিহার্য এবং এটা বাসিন্দাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব।

ভাবতে ভালো লাগে যে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলির তালিকায় বাংলাদেশের নাম উঠেছে। ঢাকার চাক্ষুষ কিছু উন্নয়ন—মেট্রো রেলের কাজের অগ্রগতি, দ্রুত বাস ট্রানজিট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ ও বিমানবন্দর রোডের সৌন্দর্যমণ্ডিতকরণ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো একটি করে সুন্দর দেয়াল ও পিলার বানানো হলেই পোস্টার লাগানো হচ্ছে। কবিরাজের বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বিসিএস চাকরির কোচিং বা বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাদের কেউ পিছিয়ে নেই এই পোস্টার লাগানোর প্রতিযোগিতায়। রাতের বেলা লাগিয়ে যাওয়া এক পোস্টারের ওপরে পরের রাতে সাঁটানো হয় আরেকটি পোস্টার। এমনকি ব্যক্তি মালিকানাধীন ভবনের দেয়ালও ঢাকা পড়ছে পোস্টারে। নগরের সৌন্দর্য বর্ধনে কর্তৃপক্ষ বারংবার হুঁশিয়ারি দিয়েও কমাতে পারেননি যত্রতত্র পোস্টার সাঁটানোর প্রবণতা। এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের উচিত দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২-কে আরো সময়োচিত করা। নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া পোস্টার লাগানো যাবে না। এ ব্যাপারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে আমাদের দেশ যে এখন এগিয়েছে তার প্রমাণ করা।

ঢাকা শহরে উল্লেখযোগ্যভাবে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা নেই। সে কারণে ঢাকাতে অনেক রাস্তায় পার্কিং করার প্রবণতা দেখা যায়। মেট্রো রেল যেহেতু বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে পরিবহন করবে, তাত্ক্ষণিক মেট্রো লাইন ধরে বেশ কয়েকটি মাল্টি-স্টোড়ি গাড়ি পার্ক নির্মাণ প্রয়োজন। পার্কিং সুবিধা থাকলে প্রধান রাস্তাগুলোতে চাপ কমবে। কেবল গাড়ি পার্কিং নয়, সাইকেল স্বল্প দূরত্বে পৌঁছানোর পক্ষে সবচেয়ে সুবিধাজনক বাহন হিসাবে বিবেচিত। সাইকেল রাইডাররা একবার মেট্রো রেল স্টেশনে উঠলে তাদের স্টেশনে ছেড়ে যাওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা থাকা  উচিত। ঢাকা এমআরটি কর্তৃপক্ষ নিরাপদে সাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখলে বাইসাইকেল স্টেশনে রেখে ট্রেন ধরতে সহজ হবে। এতে করে ট্রানজিট স্টেশন হিসাবে মেট্রো রেলের ক্যাচমেন্ট অঞ্চলটি আরো প্রসারিত হতে পারে। এছাড়া বাইসাইকেল লেনে অবৈধ অস্থায়ী দোকান ও পার্কিং বন্ধ জরুরি। ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা  শহরে প্রচুর পথচারী আছেন, যাঁরা ফুটপাত ব্যবহার করেন। তবে ঐসব ফুটপাত পথচারীবান্ধব নয়। সে কারণে স্কাইওয়াক তৈরি করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমতে পারে, ফুটপাতের সহজলভ্যতা বাড়িয়ে বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা এবং অপরাধ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। স্কাইওয়ে নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস ট্রাফিক এবং আবহাওয়ার প্রভাব ছাড়াই লিঙ্কওয়ে হলে পথচারীরা আবহাওয়ার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিরাপদে মেট্রো স্টেশনে পৌঁছানোর সুযোগ পাবেন। বিমানবন্দর, ফার্মগেট বা বড় শপিংমলকে সংযোগ করে স্কাইওয়াকটি তৈরি হলে ঢাকা নতুন স্মার্ট সিটির পরিচয় বহন করবে।

ঢাকার পাবলিক বাস সার্ভিসকে সব মানুষের ব্যবহারের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। পর্যাপ্ত বাস না থাকলে ঢাকাবাসী কখনো পাবলিক বাসনির্ভর হবে না। বর্তমানে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ রুটে যেসব বাস চলাচল করছে, সেগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকলেও জরাজীর্ণ ও লক্কড়-ঝক্কড়।  এসব গাড়িতে উঠতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়, গাড়ি পেলেও বসার জায়গা পাওয়া যায় না। বাসের অপ্রতুলতা ও সিটিং এসি বাসের সংখ্যা কম থাকায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। তেমনি বাড়ছে সময় ও অর্থের অপচয়। গাড়ির সংখ্যা বাড়তে থাকলে মেট্রো রেল বা এলিভেটেড রুট চালু করেও কোনো কাজ হবে না। সেই কারণে বিপুল সংখ্যক পাবলিক বাস প্রয়োজন। যেসব বাসে খুব সহজে উঠে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। পরিশেষে, আমাদের দেশ যে এগিয়েছে—ঢাকাকে সুন্দর করে উপস্থাপন করে তার প্রমাণ রাখা জরুরি। এজন্য আমাদের দায়িত্ব কিছু কম নয়।

ঢাকা