খারাপ মানুষের সংখ্যা, শান্তি সম্প্রীতি বিনষ্টকারী লোকের সংখ্যা সত্যিকার অর্থে খুব কম। বেশির ভাগ মানুষই শান্তির পক্ষে, সম্প্রীতির পক্ষে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষ তো সব সময়ই শান্তির পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে। সব ধর্মে, সব দেশে সব সময়ই কিছু খারাপ মানুষ থাকে। কিন্তু এর জন্য ভালো মানুষকে দোষী ভাবা যায় না। দোষী ভাবার কারণ আছে বলে মনে করি না। কোনো ধর্মই অশান্তির কথা বলে না। সত্যের কথা বলে। ন্যায়ের কথা বলে। কিছু মানুষ ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সমাজে, রাষ্ট্রে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। কখনো ব্যক্তি স্বার্থে, কখনো রাজনৈতিক স্বার্থে, কখনো ধর্মের ভুল ব্যাখ্যায় কিছু মানুষ সমাজে, রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকে। এর দায় বাকি ভালো মানুষের নয়। হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফাত ময়দান তাঁর বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, পুত্রের দোষে পিতাকে দায়ী করা যায় না। অর্থাত্ একের দোষে অন্যকে শাস্তি দেওয়া যায় না। সব মানুষ যাতে ঠিক পথে আসে সে দায়িত্ব সাধারণ মানুষের। ভুলপথে চলা মানুষকে ঠিক পথে আনার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, সমাজের। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের তাই এগিয়ে আসতে হবে। এদেশে প্রায়ই দেখা যায় যে, হিন্দুধর্মের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মুসলমানেরাও হয় আনন্দ করে নয় সহযোগিতা করে থাকে। অনেকে উত্সবে অংশগ্রহণ করে। আবার হিন্দুধর্মের লোকজন ঈদ উত্সবেও আনন্দ উল্লাস করে, খাওয়াদাওয়া করে, বেড়াতে যায়। আবহমান কাল ধরে চলে আসছে এ সম্প্রীতির বন্ধন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের বড় পরিচয় মানুষ। সবকিছুর পরেও জয় হয় মানবতার। জয় হয় সত্যের, জয় হয় ন্যায়ের। জয় হয় বিবেকবোধের।
আমি ব্যক্তিগতভাবে একসময় পূজায় যতটা আনন্দ করতাম তার চেয়ে বেশি আনন্দ করতাম ঈদ অনুষ্ঠানে। এখন সময় ও সুযোগের অভাবে হয়তো তেমনভাবে করা হয়ে ওঠে না। কিন্তু সেই আনন্দ উপভোগের দিনগুলো সত্যিই সুখের স্মৃতি হয়ে আজো ভেসে ওঠে হূদয়াকাশে। আমার ব্যক্তিগত বন্ধু আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের তালিকায়ও ইসলামধর্মের বন্ধুরাই বেশি। আসলে বন্ধুত্ব, ভালোলাগা এসব জাতি, ধর্ম, বর্ণ দেখে হয় না। মনের মিল, আত্মার মিল দিয়ে হয় বন্ধুত্ব, ভালোলাগা। এদেশে সবাই একসঙ্গে ভাই ভাই হিসেবে চলবে। কোনো সমস্যা হলে সবাই মিলে সে সমস্যার একটি সুন্দর সমাধান করবে। এই যে কুরআন অবমাননার জন্য সারা দেশে বেশ কিছু ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ হয়েছে— সেটা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এটাও ঠিক যে প্রত্যেক জায়গায় আবার মুসলমানরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। প্রতিবাদ করছেন, সমাবেশ করছেন। সনাতন ধর্মের লোকজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর এভাবেই হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিষ্টান সবাই একে অন্যের পাশে দাঁড়াবে। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাবে একটা সুন্দর আগামীর পথে—এটাই বিশ্বাস করি। ধর্ম বর্ণ জাতি এবং রাজনীতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের পরিচয় আমরা সবাই বাঙালি। একই রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ।
সুনামগঞ্জ
