তানভীর তারেক
নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম, হৈ চৈ, জি ফাইভসহ একাধিক বিদেশি ওটিটি (ওভার দ্য টপ) প্লাটফর্মে বাংলাদেশি দর্শক সংখ্যা বেড়েছে রেকর্ডহারে। দীর্ঘদিন ধরেই নানা পরিকল্পনা হলেও দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্মের চাহিদার কথা অনেকেই বলেছেন। অবশেষে বেশ ক’টি ওটিটি প্লাটফর্ম তাদের বৈচিত্র্যময় কন্টেন্ট নিয়ে হাজির হচ্ছে। এর ভেতরে দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম হিসেবে ‘চরকি’ বিগ বাজেটে দীর্ঘ মেয়াদে কাজ শুরু করেছে। নিয়মিত সিরিজ, ডকুমেন্টারি, চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে এই প্লাটফর্মে।
সর্বশেষ এই প্লাটফর্মে নির্মাতা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘মুন্সিগিরি’ মুক্তি পায়। ওটিটি প্লাটফর্মের বাজার চাহিদা প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘বাংলাদেশে দর্শক প্রচুর। এটিই সবচেয়ে বড় আশার জায়গা। তবে কোয়ালিটি কাজ দিয়েই ওটিটি টিকে থাকবে। ভাইরাল কন্টেন্ট দিয়ে ওটিটি টিকবে না।’
অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীদের জন্য আশীর্বাদ বলে মনে করি ওটিটি প্লাটফর্ম। কারণ এখানে পেশাদারিত্ব আছে। একইসঙ্গে শিল্পীদের সম্মানীও বেশি। কাজের কোয়ালিটির ক্ষেত্রেও এখানে ছাড় দেওয়া হয় না। আর এই বাজারটিও বিশাল।’
এর পাশাপাশি প্রায় হাজার কোটি টাকা বাজেটে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম তাদের নিজস্ব ওটিটি প্লাটফর্ম চালু করছে। এরই ভেতরে তারা দেশীয় নাটক সিনেমাসহ তুরস্ক, কোরিয়া, হংকংয়ের একাধিক সিরিজের কপিরাইট কিনেছে বলে জানা যায়। যা আন্তর্জাতিক বাজার ধরতেই তারা সমৃদ্ধ হয়েই দর্শকদের কাছে অবমুক্ত হবে খুব শিগগিরই। খুব শিগগিরই তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় আসবে।
এ প্রসঙ্গে চ্যানেল আইয়ের কর্ণধার ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘দর্শকদের কথা মাথায় রেখে সবসময়ই আমরা সময়কে ধারণ করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে টিভি মিডিয়ায় অনেককিছুই প্রথম শুরু করেছি আমরা। ওটিটি প্লাটফর্মের ক্ষেত্রেও আমরা একটি ভিন্নধারার প্লাটফর্ম তৈরি করছি। যা খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে সবাই জানতে পারবে।’ তবে চ্যানেল আইয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চিত্রনায়ক রিয়াজ রয়েছেন বলে জানা যায়।
এদিকে দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম হিসেবে ‘ঝাক্কাস’ নামের একটি বড় বাজেটের ওটিটি প্লাটফর্ম নিয়ে আসছে প্রাণগ্রুপ। প্রায় অর্ধশতাধিক সিরিজ নির্মাণ, চলচ্চিত্র কমিশন থেকে শুরু করে বিদেশি জনপ্রিয় সিরিজ কিনছে তারা। ঝাক্কাস টিভির একজন কর্মকর্তা জানান, ‘আমাদের দেশীয় প্লাটফর্ম থেকেই দর্শকেরা সব রকম বিনোদন পাবে। গত ৪ বছরে বিদেশি ওটিটি প্লাটফর্ম বাংলাদেশি দর্শকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়েছে। আমরা সেগুলো বন্ধের দাবি জানাচ্ছি না। কিন্তু একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধেই দেশীয় একাধিক ওটিটি প্লাটফর্ম এখন সময়ের দাবি।’
এদিকে দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে বঙ্গ। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের হিন্দি ভার্সন মুক্তি দিচ্ছে। দেশীয় কন্টেন্টের আন্তর্জাতিক দর্শক তৈরির জন্য ইংরেজিসহ একাধিক ভাষায় ডাবিং করে কন্টেন্ট নির্মাণের কাজ করছে অনেকেই। তবে ওটিটি প্লাটফর্মই আগামীতে দর্শকরাজ্যে রাজত্ব করবে এটি নির্দ্বিধায় বলা যায়। মোশারররফ করিম বলেন, ‘এখানে কোয়ালিটির কোনো বিকল্প নেই। আমি মনে করি একাধিক ওটিটি প্লাটফর্ম এদেশে যাত্রা শুরু করলে দেশের অগণিত মেধাবী অভিনয় শিল্পী-কুশলীরা তাদের সৃজনশীলতা দেখানোর দারুণ এক জায়গা পাবে।’ তাই ২০২২ সালে একাধিক দেশীয় ওটিটি প্লাটফর্ম তাদের নিজস্ব কন্টেন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করছে। ধারণা করা হচ্ছে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হবে এই নতুন ইন্ডাস্ট্রিতে।
