সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে ভোজ্য তেল সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম আরো বেড়েছে। বেড়েছে ময়দা ও ডিমের দামও। গতকাল এক দিনেই প্রতি কেজি ময়দার দাম বেড়েছে তিন টাকা। আর ডিমের দাম বেড়েছে হালিতে দুই থেকে তিন টাকা। তবে, ভোক্তাদের জন্য সুখবর হলো, ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। দাম কমার এ তালিকায় আরো রয়েছে মাঝারি মানের মসুর ডাল।
গতকাল রাজধানীর শান্তিনগর, কাওরান বাজার ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া যায়। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) তাদের খুচরা বাজার দরের প্রতিবেদনে ময়দা, ডিম ও তেলের দাম বাড়ার তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল বাজারে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ৬৯০ থেকে ৭৫০ টাকা, ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, প্রতি লিটার সুপার পাম অয়েল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু এক দিন আগে তা যথাক্রমে ৬৮০ থেকে ৭৪০ টাকা, ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ও ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। গত প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম বাড়তি। টিসিবির হিসেবে, গত এক বছরে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৪৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ ও সুপার পাম অয়েলের দাম ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এদিকে গতকাল এক দিনেই ময়দার দাম কেজিতে তিন টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা ও প্যাকেটজাত ময়দা ৪৮ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি চিনির দামও। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। যা দুই দিন আগেও ৮০ থেকে ৮২ টাকা কেজিতে পাওয়া গেছে।
দাম বেড়েছে ডিমেরও। চলতি মাসের মাঝামাঝিতে ডিমের দাম কিছুটা কমলেও গতকাল আবার বেড়েছে। প্রতি হালি ফার্মের লাল ডিমে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে ৩৭ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অনেক দিন ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়তি থাকলেও এখন কমতির দিকে রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে গতকাল বাজারে তা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়। সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল মাঝারি মানের মসুর ডালের দাম কমেছে। কেজিতে তিন টাকা কমে গতকাল বাজারে প্রতি কেজি মাঝারি মানের মসুর ডাল বিক্রি হয় ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। আর ছোটদানা মসুর ডাল ১০৫ থেকে ১১০ টাকা ও বড়দানা মসুর ডাল ৮৮ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁয়াজের দাম আরো কমেছে। কেজিতে ১০ টাকা কমে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাওরান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, পূজার বন্ধ শেষে ভারত থেকে পেঁয়াজের আমদানি বেড়েছে। তাই দাম কমেছে। তবে আগামী ডিসেম্বরে দেশে নতুন পেঁয়াজ উঠলে দাম আরো কমবে। এদিকে বাজারে শীতকালীন বিভিন্ন আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো চড়া।
