স্মরণে কবি আবুল হাসনাত

‘সময়ের সেরা সম্পাদক সেরা মানুষ ছিলেন আবুল হাসনাত’

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০০

প্রখ্যাত সাহিত্য-সম্পাদক, চিত্রসমালোচক, কবি আবুল হাসনাত তার কাজের মধ্য দিয়ে বাঙালির মনোগঠনের পরিচ্ছন্ন ভাবধারা, স্বরূপের অনুসন্ধান ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির ভাবনাচিন্তায় যে মাত্রা সঞ্চার করেছিলেন তা এদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে। বিশেষত এদেশে শিল্পকলা বিষয়ে মানুষকে উত্সাহী এবং গ্রন্থপাঠে আগ্রহী ও পাঠরুচি তৈরিতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

গতকাল শুক্রবার বিকালে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত প্রয়াত কবি আবুল হাসনাত স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্বনামখ্যাত শিল্পী অদিতি মহসিনের রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর আবুল হাসনাতের জীবনের ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র দেখানো হয়। অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, কবি তারিক সুজাত এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আবুল হাসনাতের স্ত্রী সাংবাদিক নাসিমুন আরা হক মিনু। স্মরণ অনুষ্ঠানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, আবুল হাসনাতের কবিতা পাঠ করেন। পরে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ‘আবুল হাসনাত স্মারক’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হাসনাতের কাছে আমার অনেক ঋণ। সংবাদে দীর্ঘদিন আমি গাছপাথর নামে লিখি, সেটা আবুল হাসনাতের জন্য হয়েছিল। আহসান হাবীবের পর আমরা পাই আবুল হাসনাতকে, এমন সম্পাদক আমরা আর পাইনি। তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক জাগরণ। আবুল হাসনাত এই সাংস্কৃতিক জাগরণের কাজটিই করতেন। আজ দেশের দুঃসময়ে আবুল হাসনাতের বড় প্রয়োজন ছিল।

ডা. সারওয়ার আলী বলেন, ‘হাসনাত ছিল আত্মপ্রচার বিমুখ মানুষ। তাই আমরা সকলে তার সম্পর্কে জানতে পারছি মৃত্যুর পরে। জেনেছি সে আমাদের কতভাবে ঋণী করে গেছে। হাসনাত ছিল শিল্প-সাহিত্যের জ্ঞানের ভান্ডার।’

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, তরুণ লেখক সৃষ্টিতে, তাদের উত্সাহ দিতে আবুল হাসনাত ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ। শিল্প বা সাহিত্য বিষয়ক যে কোনো তথ্যের প্রয়োজনে আবুল হাসনাতের কাছ থেকে আমি সাহায্য পেয়েছি, পেয়েছি তার দিকনির্দেশনা।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, যতই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক, আমরা নিশ্চয়ই হাসনাতের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

মতিউর রহমান বলেন, হাসনাতের মৃত্যুর পর তাকে যেন আরো বেশি করে জানছি প্রতিনিয়ত। সেই বায়ান্নর আন্দোলন থেকেই একসঙ্গে পাড়ি দিয়েছি বহু পথ। হাসনাত আমাদের সময়ের সেরা মানুষ। বক্তব্য শেষে তিনি আবুল হাসনাতের ‘নষ্ট হয়ে যাচ্ছি’ কবিতাটি পাঠ করেন।