পুলিশ সেজে সড়কে ডাকাতি

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০১

ছয় দুর্বৃত্ত গ্রেফতার, নকল পোশাক , পরিচয়পত্র , পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি

পুলিশের পোশাক, পিস্তল, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি, জ্যাকেট, পুলিশ বেল্ট ও ভুয়া পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে  সড়কে গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি করত ওরা। চক্রটি তিন থেকে চার বছর ধরে পুলিশ সেজে টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসেট ও দামি জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিত। এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে গতকাল শুক্রবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে সাভারের রাজাশন এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে  পুলিশের পোশাক পরা অবস্থায় এই দলের ছয় দুর্বৃত্তকে  গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। 

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি নকল পিস্তল, একটি পিস্তল সদৃশ্য  লাইটার, একটি কভারসহ হ্যান্ডকাফ, একটি ওয়াকিটকি, দুই সেট পুলিশ ইউনিফর্ম, পুলিশ জ্যাকেট, পুলিশ বেল্ট, পুলিশের ভুয়া পরিচয়পত্র , দুইটি রামদা, একটি ডেগার, একটি চাপাতি, দুইটি ছুরি, দুইটি টর্চলাইট, দুইটি রশি, ৪৬৭ পিস ইয়াবা, ৩০ বোতল ফেনসিডিল, দেড় কেজি গাঁজা, সাত গ্রাম হেরোইন, পাঁচ লিটার চোলাই মদ, ১৯টি মোবাইল ফোনসেট ও ৪৪ হাজার ৫৭০ টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো :সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হোতা শামীম রেজা, হেলাল উদ্দিন, মো. পারভেজ, ওয়াসিম ইসলাম, নাইম খান, ও ফেরদৌস আহমেদ রাজু। গতকাল কাওরান বাজার র?্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত শামীম রেজা কিশোর বয়স থেকেই অপরাধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। সে গ্রামের স্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে। সে ২০০৫ সালে ঢাকায় আসে। এক পর্যায়ে সে নিজে মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।  পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে তার নেতৃত্বে ডাকাত দল গড়ে তোলে। ডাকাত চক্রটি রাতের আঁধারে পুলিশের ভুয়া ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় টর্চ লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি থামিয়ে টাকাপয়সা, স্বর্ণ-অলংকার, মোবাইল ফোন এবং দামি জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিত ।

শামীম ২৫-৩০টি অটোরিকশা ও সিএনজির মালিক। তার নামে অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সে নিজেকে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে পরিচয় দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, নকল আগ্নেয়াস্ত্র, নকল পরিচয়পত্র, ইউনিফর্ম, ওয়াকিটকি সেট ব্যবহার করে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও চাঁদাবাজি করত।  সাভার এলাকায় তার রয়েছে ডাকাত দল ।

এ ছাড়া সে বিভিন্ন সময়ে ভুয়া  পুলিশ অফিসার সেজে তার দল দিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করত।  এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক বলেন, এর আগেও শামীম রেজা একাধিকবার চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা ও মাদক মামলায়  গ্রেফতার হয়েছিল।  জামিনে বের হয়ে এবারই প্রথম হুবহু পুলিশের ইউনিফর্ম পরে অভিনব প্রতারণায় নামে সে। শুধু ইউনিফর্মই নয়, পুলিশের ইউনিফর্মের পাশাপাশি পুলিশের যা যা প্রয়োজন সব কিছুই শামীম সংগ্রহ করেছিল।