মিনি গণরুমে গাদাগাদি অবস্থায় শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ২৩:০২

জাবিতে উপেক্ষিত নির্দেশনা

আরিফুজ্জামান উজ্জল, জাবি সংবাদদাতা

করোনাকালে ৫৭০ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১১ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। এর আগে, হলগুলোতে গণরুম না রাখার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু অছাত্রদের দাপটে আবারও সেই গণরুমেই ঠাঁই মিলেছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হল প্রশাসনের দায়িত্বহীনতায় আবারও হলে সিট দখল করেছে অছাত্ররা। এর ফলে ‘গণরুমে’ কিংবা ‘মিনি গণরুমে’ থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া কয়েকটি হলে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘গেস্টরুম’ কার্যক্রমও চলছে আগের মতোই। এসব নিয়ে কোনো বিকার দৃশ্যমান হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

হলগুলোতে সিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হল প্রশাসনের। তবে হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ঠিকমতো হলে না আসা ও রুম বণ্টনের দায়িত্ব পালন না করার মতো নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনের এমন দায়িত্বহীনতার সুযোগে হলের রুম বণ্টনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। জানা যায়, হলের যেসব রুমে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে থাকছেন, তা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হল কর্তৃপক্ষের হলেও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের দখলে রয়েছে। তবে এসব দায়িত্ব ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতারা পালন করতে পারেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল, শহীদ সালাম-বরকত হল ও আ ফ ম কামাল উদ্দীন হলে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ডেকে ‘গেস্টরুম’ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাত ১১টা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত তৃতীয় বর্ষের (৪৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থীরা গেস্টরুম পরিচালনা করছেন বলে জানায় দ্বিতীয় বর্ষের একাধিক শিক্ষার্থী। অন্য হলগুলোতে ‘গেস্টরুম’ বন্ধ থাকলেও সিনিয়ররা রুমে ডেকে গালমন্দ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান বলেন, অছাত্রদের হল থেকে  বের  করতে  পারলেই  প্রথম বর্ষ ও  দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের  আসন  নিশ্চিত  করা  যাবে । আর হলগুলোতে  ‘গেস্টরুম’  চালানোর  বিষয়ে  তার  জানা নেই। তবে ‘গেস্টরুম’ চলে থাকলে  অতিদ্রুত হল প্রাধ্যক্ষদের  সঙ্গে  কথা  বলে  বন্ধের  ব্যবস্থা  করা হবে।