ক্ষতবিক্ষত দুই পাহাড়
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ পাহাড় রক্ষার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সব মহলকেই সচেতন হতে হবে। পাহাড়
কাটার তথ্য যখনই আসে তখনই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার লালমাই ও ময়নামতি পাহাড় ঘিরে বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে মাটিদস্যু চক্র। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না তাদের। মাটির প্রয়োজন পড়লেই সবারই নজর পড়ে এই দুই পাহাড়ের দিকে। ক্ষতবিক্ষত করে ফেলা হয়েছে পাহাড় দুইটিকে।
জেলা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২৫ লাখ বছর আগে প্লাইস্টোসিন যুগে লালমাই ও ময়নামতি পাহাড়ের সৃষ্টি হয়েছিল। পাহাড়ের দৈর্ঘ্য ৮ কিলোমিটার, অংশভেদে গড় প্রস্থ প্রায় ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ উচ্চতা ৪৬ মিটার। পাহাড়কে দ্বিখণ্ডিত করে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণাংশ লালমাই ও উত্তরাংশ ময়নামতি পাহাড় নামে পরিচিত। উঁচু-নিচু দুইটি পাহাড়ে জেলার আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, বরুড়া ও বুড়িচং উপজেলার অংশবিশেষ রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে মাটিদস্যুরা বিভিন্ন স্থান থেকে দিনে-রাতে মাটি কেটে পাহাড় ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছে। এছাড়া বিগত সময়ে রেলপথ, চার লেনের মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নের প্রয়োজনে কাটা হয়েছে পাহাড়। পাহাড়ের লালমাই, বিজয়পুর, রাজারখোলা, গলাচিপা, সালমানপুর, কোটবাড়ি, জামমুড়া, সানন্দা, রাঙ্গামুড়া, ষাইট কলোনি, বড়বাতুয়া, ভাঙ্গামুড়া, চৌধুরীখোলা, ধনমুড়া, রাণী ময়নামতি প্রাসাদের পাশে, উত্তর লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটার ফলে অনেক এলাকা এখন অনেকটা সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে। মাটিকাটা সিন্ডিকেট এখন চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে নতুন নতুন কৌশলে পাহাড় কাটছে। মাটি কাটার পুরোনো ও নতুন ক্ষতচিহ্ন ছড়িয়ে আছে পাহাড় জুড়ে। লালমাই পাহাড়ের সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীবিদ্যা এলাকার অন্তত ১২ জন বাসিন্দা জানান, কিছুদিন আগে সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে দিনে-রাতে উঁচু একটি পাহাড় কাটা হয়। জামমুড়া এলাকার একটি উঁচু পাহাড়ের রাস্তার পাশের অংশ কৌশলে ঠিক রেখে পেছনের অংশের মাটি কেটে সমতল করা হয়েছে।
বাপা-কুমিল্লার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, অনুমতি ব্যতীত সরকারি কিংবা ব্যক্তিমালিকানার পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় হলেও বিভিন্ন অংশে পাহাড় কাটা চলছেই। যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করা না গেলে পাহাড়ের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দুরূহ হবে। কুমিল্লা নাগরিক ফোরামের সভাপতি কামরুল আহসান বাবুল বলেন, তদারকির অভাবে পাহাড় এখন অনেকটা ধ্বংসের পথে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনোদন পার্ক, রাস্তার উন্নয়ন কিংবা ব্যক্তি প্রয়োজনে মাটির জন্য সকলের নজর যেন পাহাড়ের দিকে। পরিবেশ অধিদপ্তর-কুমিল্লার উপপরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে মাটি কাটা প্রতিরোধে প্রায় সময় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ পাহাড় রক্ষার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সব মহলকেই সচেতন হতে হবে। পাহাড় কাটার তথ্য যখনই আসে তখনই আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
